ইরানের ১৯ কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন
ইরানের ১৯ কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইইউ

ইরানের ১৯ কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

ইরানে গণবিক্ষোভ দমনে 'গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের' অভিযোগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ১৯ কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। বুধবার ইইউর পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কাল্লাস এই ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, 'ইরান যুদ্ধ অব্যাহত থাকায় ইইউ তার স্বার্থ রক্ষা করবে এবং অভ্যন্তরীণ দমন-পীড়নের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।'

নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত

এই নিষেধাজ্ঞাগুলো ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই এই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হননি। কাল্লাস আরও উল্লেখ করেন, 'এটি তেহরানের কাছে একটি বার্তা পাঠায় যে ইরানের ভবিষ্যৎ দমন-পীড়নের ওপর গড়ে উঠতে পারে না।'

পটভূমি ও প্রতিক্রিয়া

মধ্য প্রাচ্যের এই দেশে জানুয়ারি মাসে শুরু হওয়া ব্যাপক বিরোধী বিক্ষোভের মুখে সরকার কঠোর দমন-পীড়ন চালায়, যাতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়। মোজতবা খামেনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিযুক্ত হন তার পিতা আলী খামেনেইয়ের হত্যার পর। ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি বোমা হামলার সময় একটি বিমান হামলায় তিনি নিহত হন।

২০১১ সাল থেকে ইরানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞাগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • লক্ষ্যস্থ ব্যক্তিদের জন্য ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা
  • সম্পদ হিমায়িত করার ব্যবস্থা

এই নতুন পদক্ষেপটি ইইউর মানবাধিকার বিষয়ক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে ইরানের অভ্যন্তরীণ নীতির বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান চাপের প্রতিফলন ঘটিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই নিষেধাজ্ঞাগুলো ইরানের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।