নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর থানার গুড়িহারী গ্রামে মমতা খাতুনের বাড়ি। প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত গুড়িহারী-কামদেবপুর আলোর পাঠশালার অষ্টম শ্রেণির নিয়মিত শিক্ষার্থী সে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান গেয়ে পুরস্কার পেয়েছে মমতা।
পরিবারের অবস্থা
পঞ্চম শ্রেণি পাস করার পর ২০২৪ সালে গুড়িহারী-কামদেবপুর আলোর পাঠশালায় ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয় মমতা। তার বাবার নাম মো. মনিরুল ইসলাম আর মায়ের নাম মোসা. সাবানা বেগম। মমতারা দুই বোন। দুই বোনের মধ্যে মমতা ছোট। তার বাবা পেশায় একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আর মা গৃহিণী। তার মা সংসারের কাজের পাশাপাশি গরু ও ছাগল পালন করে। তার বাবার জমিজমা বলতে কিছুই নাই। ওই ক্ষুদ্র দোকান থেকে যে টাকা আয় হয় তা দিয়ে সংসার এবং মেয়ের পড়ালেখার খরচ চালাতে কষ্টকর হয়ে পড়ে।
বাবার প্রত্যাশা
মমতার বাবা মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার মেয়ে লেখাপড়ায় বেশ ভালো। আমার সংসারে যতই ঝামেলা আসুক না কেন তবুও আমি আমার মেয়ের পড়ালেখা চালায়ে যাব। আমি আমার মেয়ের মনের আশা পূরণ করব।’
পড়াশোনায় মনোযোগ
মমতা পড়াশোনার পাশাপাশি তার মায়ের কাজে সাহায্য করে। তা ছাড়াও গান গাইতে পছন্দ করে। সে গান গেয়ে অনেক পুরস্কারও পেয়েছে। পড়াশোনায় বেশ আগ্রহী সে। স্কুলে উপস্থিতিও তার শতভাগ। গত দুই বছরে সে একদিনও স্কুল কামাই দেয়নি। শত ঝড় বৃষ্টিতেও সে স্কুল কামাই দেয় না।
স্বপ্ন ও কৃতজ্ঞতা
মমতা বলে, ‘আমি ছোট বেলা থেকে বাবাকে কষ্ট করতে দেখেছি এবং অভাব অনটনের মধ্যে দিয়ে বড় হয়েছি। তাই আমি জীবনে ভালো কিছু করে মানুষের মতো মানুষ হয়ে বাবার সংসারের হাল ধরতে চাই। সব প্রতিকূলতাকে জয় করে এগিয়ে যেতে চাই। বাবার ছেলে সন্তান নেই। তাই আমরাই বাবার সংসারের দায়িত্ব নিতে চাই। ছোট বেলা থেকেই গান গাইতে ভালো লাগে আমার। তাই বড় হয়ে আমি গানের শিল্পী হতে চাই। গান গাওয়াকে পেশা হিসেবে নিতে চাই। আমার বিশ্বাস সুযোগ পেলে আমি বড় কণ্ঠশিল্পী হয়ে দেশের ও সমাজের মুখ উজ্জ্বল করতে পারব। আমি প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত এই বিদ্যালয়ে থেকে অনেক সুযোগ-সুবিধা পেয়েছি। প্রথম আলো ট্রাস্টের সহযোগিতা না পেলে আমি কখনো এই স্বপ্ন দেখার সাহস পেতাম না। তাই প্রথম আলো ট্রাস্টকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই।’



