পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ-হত্যা মামলায় ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ
পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ-হত্যা মামলায় ১৬ সাক্ষ্য

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে ১৬ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাক্ষীদের মধ্যে রয়েছেন শিশুটির বাবা, মা, বোন, ফুফু ও চাচা। আজ মঙ্গলবার ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আসামিদের উপস্থিতিতে এই সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

সাক্ষ্য গ্রহণের সময়সীমা

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শুরু হয়ে মাঝে বিরতি দিয়ে বেলা সোয়া তিনটা পর্যন্ত এই সাক্ষ্য গ্রহণ চলে। আগামীকাল আসামিপক্ষের সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছেন আদালত।

আদালতে আসামিদের উপস্থিতি

সকাল ৯টার দিকে আসামি দুজনকে কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে এনে হাজতখানায় রাখা হয়। পরে ১০টা ১২ মিনিটে সোহেল রানাকে ও ১০টা ২৪ মিনিটে স্বপ্না আক্তারকে আদালতের কাঠগড়ায় উঠানো হয়। কাঠগড়ায় উঠেই স্বপ্না কাঁদতে থাকেন। পরে তাঁকে বসিয়ে রাখা হয়। পুলিশ সদস্যরা তাঁর হেলমেট, হাতকড়া খুলে দেয়। এ সময় সোহেল স্ত্রী স্বপ্নার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তাঁকে থামিয়ে দেন দায়িত্বরত পুলিশ। সোহেলের মাথায় হেলমেট, বুকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হাতকড়া পরানো ছিল।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শুনানির সূচনা

সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে বিচারক এজলাসে আসেন। এরপর শুনানি শুরু করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু। শুরুতেই তিনি আসামি সোহেলের মিডিয়াতে কথা বলার বিষয়ে অভিযোগ তোলেন। এ সময় তিনি আদালতের কাছে আবেদন জানান আদালতের বাইরে পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় আসামি যেন মিডিয়াতে কথা বলার সুযোগ না পায়। আদালত শুনানি শেষে এ আবেদন মঞ্জুর করেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সাক্ষ্যদান

এরপর শুরু হয় সাক্ষ্য গ্রহণ। শুরুতে সাক্ষ্য দেন শিশুটির বাবা। তিনি অসুস্থতার জন্য আদালতের অনুমতি নিয়ে চেয়ারে বসে সাক্ষ্য দেন। বিচারকের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। এরপর সাক্ষ্য দেন শিশুটির মা। পরে আসামিপক্ষের আইনজীবী জেরা করেন তাঁকে। এরপর অন্যরা সাক্ষ্য দেন।

ঘটনার বিবরণ

গত ১৯ মে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পল্লবীর একটি ভবনের তিনতলার ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই ফ্ল্যাটের বাসিন্দা সোহেল রানা ঘটনার পর শৌচাগারের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান। তবে ওই বাসা থেকে তাঁর স্ত্রীকে তখনই আটক করা হয়। আর ওই দিনই সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা ও জবানবন্দি

ঘটনার পরদিন শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন। ২০ মে বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন আসামি সোহেল রানা। জবানবন্দিতে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যার কথা স্বীকার করেন তিনি।

প্রতিক্রিয়া

নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং দল ও সংগঠন ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছে।