বগুড়ার নন্দীগ্রামে ধর্ষণের শিকার হয়ে পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী (১২) চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগীর মা মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে মেয়ের বান্ধবীর বাবা অভিযুক্ত দোলা হোসেনের (৩৫) বিরুদ্ধে নন্দীগ্রাম থানায় মামলা করেন।
ডাক্তারি পরীক্ষা ও জবানবন্দি
নন্দীগ্রাম থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, নির্যাতিত ছাত্রীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে ২২ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণের জন্য তাকে আদালতে পাঠানো হবে। পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত দোলা হোসেন পেশায় একজন আইসক্রিম বিক্রেতা এবং তিনি নন্দীগ্রাম উপজেলার ওই এলাকার মোজাফফর হোসেনের ছেলে।
ঘটনার বিবরণ
ঘটনার বর্ণনায় জানা যায়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ওই স্কুলছাত্রী তার বান্ধবী আছিয়া খাতুনের বাড়িতে যায়। সে সময় বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে বান্ধবীর বাবা দোলা হোসেন তাকে ওড়না দিয়ে মুখ বেঁধে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর লোকলজ্জা ও প্রাণভয়ে বিষয়টি সে গোপন রাখে।
পরবর্তীতে সম্প্রতি তার শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। গত ২৪ মে মেয়েটির মা বিষয়টি জানতে চাইলে সে ধর্ষণের কথা জানায়। পরে আলট্রাসনোগ্রাফি করা হলে রিপোর্টে জানা যায়, সে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
মামলা ও পলাতক আসামি
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়। পরে মঙ্গলবার সকালে ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। নন্দীগ্রাম থানার ওসি মিজানুর রহমান বিকালে জানান, একমাত্র আসামির বিরুদ্ধে মামলা নেওয়া হয়েছে। ভিকটিমকে চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করা হবে। তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত দোলা হোসেন পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



