ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ১৮ জনে দাঁড়িয়েছে।
মৃত শিশুর পরিচয়
মৃত শিশুটির নাম তাসিম। সে ঝিনাইদহ শহরের আসিম মিয়ার ছেলে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ মে হামের উপসর্গ নিয়ে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নতুন রোগী ও চিকিৎসা
ফরিদপুর সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯১ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে ৪৫ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ১৮৩ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যার মধ্যে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১৮ জন শিশু রয়েছে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বক্তব্য
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলেছেন, আক্রান্ত রোগীদের অধিকাংশই শিশু। অনেক ক্ষেত্রে টিকাদানে বিলম্ব এবং দেরিতে চিকিৎসা নেওয়ার কারণে জটিলতা বেড়েছে। তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা ২৪ ঘণ্টা সেবা দিচ্ছেন।
ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জনবল ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি বলেন, 'আমরা সতর্ক আছি যাতে কোনো ঘাটতি না হয়।' তিনি আরও বলেন, ঈদের ছুটিতে বিভিন্ন এলাকা থেকে শিশুরা গ্রামে ফিরে আসায় হামের প্রকোপ বেড়ে থাকতে পারে। তবে আশা করছি এক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
ফরিদপুর শিশু হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ ডা. নিরঞ্জন ভৌমিক বলেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। আক্রান্ত শিশুর জ্বর, লাল ফুসকুড়ি, কাশি বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নেওয়া উচিত। তিনি হাম প্রতিরোধে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় শিশুদের আনার ওপর জোর দেন এবং ঈদের ছুটিতে গ্রামে যাওয়া অভিভাবকদের প্রয়োজনীয় চেকআপ করানোর পরামর্শ দেন। ডা. নিরঞ্জনের মতে, প্রাথমিক শনাক্তকরণ, সময়মতো চিকিৎসা এবং পূর্ণ টিকাদানের মাধ্যমে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।



