হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে ট্রাম্পের দাবি, নেতানিয়াহু বললেন অবস্থান অপরিবর্তিত
হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু বিতর্ক

লেবাননে ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের লক্ষ্যে হিজবুল্লাহর সঙ্গে খুব ভালো আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈরুতের শহরতলি থেকে ইসরায়েলি বাহিনী নতুন করে বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পর সোমবার তিনি এই দাবি করেন। ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদের মাধ্যমে হিজবুল্লাহর সঙ্গে আমার খুব ভালো আলোচনা হয়েছে। তারা সব ধরনের গোলাগুলি বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে। অর্থাৎ ইসরায়েল তাদের ওপর হামলা করবে না এবং তারাও ইসরায়েলের ওপর হামলা করবে না।

হিজবুল্লাহর অবস্থান

হিজবুল্লাহর সংসদ সদস্য হাসান ফাদলুল্লাহ সোমবার এক বিবৃতিতে বলেন, তার দল পুরো লেবাননজুড়ে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি সমর্থন করে। এটি সব লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের একটি পূর্বশর্ত হবে। ফাদলুল্লাহ আরও বলেন, হিজবুল্লাহ একটি আংশিক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে, যেখানে উত্তর ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর হামলা বন্ধের বিনিময়ে বৈরুতে ইসরায়েলি হামলা না করার কথা বলা হয়েছিল।

লেবাননের প্রেসিডেন্সির নিশ্চিতকরণ

পরবর্তীতে লেবাননের প্রেসিডেন্সিও নিশ্চিত করেছে যে, হিজবুল্লাহ পারস্পরিক হামলা বন্ধের বিষয়ে একটি মার্কিন প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে, যা পুরো লেবাননজুড়ে বিস্তৃত হবে। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইসরায়েলের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ নেতানিয়াহু বলেন, আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছি এবং তাকে বলেছি যে, হিজবুল্লাহ যদি আমাদের শহর ও নাগরিকদের ওপর হামলা বন্ধ না করে তবে ইসরায়েল বৈরুতের সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলা চালাবে। আমাদের এই অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। এর সমান্তরালে, আইডিএফ (ইসরায়েলি বাহিনী) দক্ষিণ লেবাননে পরিকল্পনা অনুযায়ী তাদের অভিযান চালিয়ে যাবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে নতুন উদ্বেগ

নামমাত্র যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে ইসরায়েল হামলা বাড়ানোর হুমকি দেওয়ার পর সোমবার সেখানকার বাসিন্দারা আবারও ঘরবাড়ি ছাড়তে শুরু করেছেন। এই নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজের একটি বিবৃতির পর। তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, ইসরায়েলি বাহিনী এবং উত্তর ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর হামলা অব্যাহত থাকলে বৈরুতে কোনও শান্তি থাকবে না।

সংঘাতের পটভূমি

২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর হিজবুল্লাহ তাদের মিত্র হামাসের সমর্থনে ইসরায়েলে হামলা শুরু করার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় ৩ হাজার ২০০-র বেশি লেবানিজ নিহত হয়েছেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের নভেম্বরে বাইডেন প্রশাসনের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি নীতিগত যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা ইসরায়েল এক হাজারেরও বেশি বার লঙ্ঘন করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর লেবাননে ইসরায়েলের হামলা আরও তীব্র হয়। ইসরায়েল অনবরত দাবি করে আসছে যে, হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্র করতে হবে।

মার্কিন মধ্যস্থতা

এই পরিস্থিতিতে গত শুক্রবার মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি অব ওয়ার ফর পলিসি এলব্রিজ কোলবি দুই পক্ষের মধ্যে চলমান আলোচনাকে এগিয়ে নিতে ইসরায়েল ও লেবাননের সামরিক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে একটি বৈঠকের আয়োজন করেন। পেন্টাগনের বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিনিধি দলগুলো আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য ব্যবহারিক কাঠামো তৈরির লক্ষ্যে ফলপ্রসূ সামরিক আলোচনায় অংশ নিয়েছে।

ইরানের আলোচনা থেকে সরে আসার খবর নাকচ

এদিকে, লেবাননে ইসরায়েলের হামলা বৃদ্ধির কারণে তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান আলোচনা থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ইরানি গণমাধ্যমের এমন প্রতিবেদন সোমবার নাকচ করে দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান আলোচনার টেবিলেই রয়েছে। ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে দ্রুত গতিতে আলোচনা চলছে। এই বিষয়ে আপনাদের মনোযোগের জন্য ধন্যবাদ!’

এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে, ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছিল, ইরান যুদ্ধ বন্ধের জন্য মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে সব ধরনের বার্তা আদান-প্রদান স্থগিত করেছে। তাসনিম তাদের প্রতিবেদনে জানায়, ‘লেবাননে ইহুদিবাদী শাসকগোষ্ঠীর (ইসরায়েল) ক্রমাগত অপরাধ এবং লেবানন যুদ্ধবিরতির অন্যতম শর্ত হওয়া সত্ত্বেও এখন লেবাননসহ সব ফ্রন্টে এই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘিত হচ্ছে। তাই ইরানি আলোচনাকারী দল মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে সংলাপ এবং বার্তা বিনিময় স্থগিত করছে।’