ইন্টারনেট আসক্তি: তরুণ প্রজন্মের সামাজিক বিচ্ছিন্নতা নিয়ে সতর্ক করলেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ
ইন্টারনেট আসক্তি: তরুণদের সামাজিক বিচ্ছিন্নতা নিয়ে সতর্কতা

ইন্টারনেট আসক্তি: তরুণ প্রজন্মের সামাজিক বিচ্ছিন্নতা নিয়ে সতর্ক করলেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সরদার আতিক সম্প্রতি একটি মাদকবিরোধী পরামর্শ সভায় ইন্টারনেট আসক্তির মারাত্মক প্রভাব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা দিয়েছেন। প্রথম আলো ট্রাস্টের আয়োজনে ২০২৩ সালের ২১ জানুয়ারি রাজধানীর ধানমন্ডির ডব্লিউভিএ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিভিন্ন হাসপাতালের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের চিকিৎসকেরা অংশগ্রহণ করেন।

ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা ও আসক্তির ঝুঁকি

ডা. সরদার আতিক তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা বর্তমান প্রজন্মের জন্য আশীর্বাদ হওয়ার কথা থাকলেও এটি এখন আশঙ্কাজনক আসক্তিতে রূপ নিয়েছে। তিনি পর্যবেক্ষণ করেন যে অতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহারের ফলে তরুণেরা বাস্তব জগত থেকে ক্রমেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।

পরামর্শ সভায় তিনি বলেন, 'ইন্টারনেটে যুক্ত হওয়া এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ। কিন্তু এই সহজলভ্যতার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে আমাদের সামাজিক ও পেশাগত জীবনে। ইন্টারনেট আসক্তির কারণে অনেক তরুণ যেমন তাদের পড়াশোনা ও কাজে মনোযোগ হারাচ্ছে, তেমনি মানসিকভাবেও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।'

সমাধানের উপায় ও অভিভাবকদের দায়িত্ব

ডা. আতিক এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন:

  • প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ন্ত্রিত ও সীমিত করা প্রয়োজন
  • সন্তানদের ওপর ইন্টারনেটের নেতিবাচক প্রভাব রোধ করতে মা-বাবাকে সবার আগে সচেতন হতে হবে
  • পিতামাতাদের সন্তানদের সাথে গুণগত সময় কাটানো উচিত
  • ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে সুষম ও ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা জরুরি

তিনি বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন যে, অভিভাবকদের সচেতনতা ও সন্তানদের সাথে গুণগত সময় কাটানো এই সমস্যা মোকাবিলার প্রথম ধাপ

মাদকবিরোধী কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

প্রথম আলো ট্রাস্টের মাদকবিরোধী কার্যক্রমের মধ্যে মাদকবিরোধী পরামর্শ সভা একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এই সভায় শুধু মাদকাসক্তি নয়, ইন্টারনেট আসক্তির মতো সমস্যাগুলো নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। ভবিষ্যতে এই ধরনের পরামর্শ সভা আরও নিয়মিত আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্টারনেট আসক্তি শুধু ব্যক্তিগত সমস্যা নয়, এটি সামাজিক সমস্যায় রূপ নিচ্ছে। তাই এই বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।