ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম শনিবার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকে অবরুদ্ধ ১ হাজার ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের সম্পদ মুক্তি দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতিবেদনে সমঝোতা স্মারকের ‘অনানুষ্ঠানিক’ একটি খসড়ার বরাত দেওয়া হয়েছে। তবে চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে রাষ্ট্রীয় টিভিতে প্রচারিত একই ধরনের একটি বিষয়কে হোয়াইট হাউস ‘বানোয়াট’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিল।
ট্রাম্পের বিবৃতি ও ইরানের প্রতিক্রিয়া
দুপক্ষের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিজস্ব বিস্তারিত বিবৃতির ঠিক এক দিন পর এই তথ্য সামনে এলো। তবে ট্রাম্পের দেওয়া বিবৃতির মূল বিষয়গুলোও একইভাবে ইরানি সূত্র খণ্ডন করেছে। গতকাল শনিবার রাষ্ট্রীয় টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ৬০ দিনের মধ্যে ইরানকে তার ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের সম্পদে পূর্ণ প্রবেশাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যাতে এসব সম্পদ কোনো বাধা ছাড়াই ইরানের পছন্দের গন্তব্যের ব্যাংকগুলোতে স্থানান্তর এবং খরচ করা যায়।
চুক্তির শর্ত ও হরমুজ প্রণালি
শুক্রবার চুক্তির বিষয়ে ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছিলেন, ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোনো অর্থের আদান-প্রদান হবে না।’ চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে একটি সূত্র এএফপিকে জানিয়েছিল, ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কাতার সফরকারী একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ছিলেন। ‘অবরুদ্ধ তহবিলের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে তিনি সেখানে যান। চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে সমঝোতা স্মারকে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।’
গতকাল শনিবার রাষ্ট্রীয় টিভির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তেহরান ‘হরমুজ প্রণালি’ পরিচালনা বা নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রাখবে, যা যুদ্ধের শুরু থেকেই ইরান অবরোধ করে রেখেছে। এর ফলে বিশ্ববাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। শুক্রবার ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরান ‘অবাধ জাহাজ চলাচলের জন্য’ এই প্রণালিটি আবার খুলে দেবে। যুক্তরাষ্ট্র বারবার বলে আসছে, এই গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।



