মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মুগদা শাখার অষ্টম শ্রেণির ছাত্র আরাফাত নাসিম আকাশ। স্কুলে নিজেকে কিশোর গ্যাং লিডার পরিচয় দেয় সে। তার নেতৃত্বে রয়েছে ১৫-২০ জনের একটি গ্যাং। স্কুলে এসে নিয়মিত ছোট-বড় শিক্ষার্থীদের র্যাগিং ও মারধর করে সে। কোনো শিক্ষার্থী আকাশের বিরুদ্ধে অধ্যক্ষ বা শিক্ষকদের কাছে অভিযোগ করলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। বরং অধ্যক্ষ গ্যাং লিডার আকাশের থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলতে পরামর্শ দেন।
সম্প্রতি ঈসা বিন জাহান জায়ান নামে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রকে ডেকে র্যাগ দেয় আকাশ। বিষয়টি জায়ান তার বাবা-মাকে জানায়। পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি জানিয়ে অধ্যক্ষকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে গত ২০ মে আকাশ চতুর্থ শ্রেণির ঐ ছাত্রকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। পাশাপাশি পরবর্তীকালে কাউকে বললে হত্যার হুমকি দেয়।
মামলা দায়ের
রোববার এ ঘটনায় মামলা করেন ভুক্তভোগী ছাত্র জায়ানের মা আয়েশা সিদ্দিকা। এতে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রওশন জাহান, মুগদা শাখার শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক মাহবুবুর রহমান এবং কিশোর গ্যাং লিডার আরাফাত নাসিম আকাশকে আসামি করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রওনক জাহান তাকির আদালতে এ মামলা করা হয়। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে।
অভিযোগের বিবরণ
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, বাদী আয়েশা সিদ্দিকার ছেলে ঈসা বিন জাহান জায়ান আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মুগদা শাখার ইংরেজি ভার্শনের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। একই স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র আরাফাত নাসিম আকাশ বিভিন্ন সময় নিজেকে কিশোর গ্যাং পরিচয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও র্যাগিং করত। এ নিয়ে গত ১৫ জানুয়ারি স্কুল কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ করা হয়। এতে অভিযুক্ত আকাশ ক্ষুব্ধ হয়ে বাদীর ছেলে জায়ানকে মারধর ও হত্যার হুমকি দেয়।
অভিযোগে আরো বলা হয়, বিষয়টি মামলার আসামি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রওশন জাহান ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক মাহবুবুর রহমানকে জানানো হলেও অভিযুক্ত আকাশের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। বরং ঈসা বিন জাহান জায়ানকে আকাশের থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে বলা হয়।
প্রতিক্রিয়া
আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রওশন জাহান বলেন, 'বিষয়টি শুনেছি। এ ঘটনাটি মুগদা শাখার। বিষয়টি নিয়ে আমরা তদন্ত করে দেখব।'



