টাঙ্গাইলে রাতে ঘোড়া জবাইয়ের ঘটনায় গ্রামবাসির সজাগ দৃষ্টি
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ধোপাকান্দি ইউনিয়নের চোরের ভিটা গ্রামে এক নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। রাতের আঁধারে ৮টি ঘোড়া জবাই করার সময় চারজন কসাইকে গ্রামবাসি আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছেন। এ ঘটনায় ৪টি জীবিত ঘোড়া উদ্ধার করা হয়েছে, যা স্থানীয় থানায় নেওয়া হয়েছে।
আটক কসাইদের পরিচয় ও ঘটনার বিবরণ
আটক কসাইরা হলেন: ঢাকার আশুলিয়ার তৈয়বপুর গ্রামের আমিনুর, জামগড়ার সুমন, সাভারের ফরহাদ এবং রংপুরের কাউনিয়ার সুমন। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার সন্ধ্যার পর একটি ট্রাকে করে ১২টি কেনা ঘোড়া হাফিজুর রহমানের বাড়িতে আনা হয়। এরপর মঙ্গলবার ভোর রাতে বাড়ির নির্জন গোশালায় ৮টি ঘোড়া জবাই করা হয় এবং মাংস প্যাকেটজাত করা শুরু হয়।
মর্মান্তিক দিক হলো, জবাই করা ঘোড়াগুলোর মধ্যে দুটির পেটে বাচ্চা ছিল, যা ঘটনার নিষ্ঠুরতা বাড়িয়ে দিয়েছে। যখন অপর চারটি ঘোড়া জবাই করার প্রক্রিয়া চলছিল, তখন গ্রামবাসি বিষয়টি টের পেয়ে হাফিজুরের বাড়ি ঘেরাও করে। পালের গোদা হাফিজুরসহ ৮ দুবৃর্ত্ত পালিয়ে যায়, কিন্তু চারজন কসাইকে আটক করা সম্ভব হয়।
দীর্ঘদিনের অবৈধ কার্যক্রমের খবর
ধোপাকান্দি ইউনিয়ন মৎস্যজীবি দলের সভাপতি ফারুখ হোসেন জানান, চোরের ভিটা গ্রামের হাফিজুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে জামালপুর সদর উপজেলার তুলসিপুর হাটসহ উত্তর বঙ্গের বিভিন্ন স্থান থেকে ঘোড়া কিনে বাড়িতে আনতেন। তিনি ঘোড়া কেনাবেচার আড়ালে জবাই করা ঘোড়ার মাংস পাইকারি দরে ঢাকার গাজীপুর ও সাভারের বিভিন্ন মার্কেটে পাঠাতেন, যা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের অংশ বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
পুলিশের বক্তব্য ও আইনগত পদক্ষেপ
গোপালপুর থানার এসআই আব্বাস উদ্দীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এরা সংঘবদ্ধ চক্রের অংশ এবং জবাই করা মাংস গ্রামবাসির হাওয়ায় রাখা হয়েছিল। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আটক চারজন কসাই এবং উদ্ধার করা ঘোড়াগুলোর বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের তদন্ত চলছে এবং পালিয়ে যাওয়া হাফিজুরসহ অন্যান্য সন্দেহভাজনদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এই ঘটনা স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং প্রাণী অধিকার ও অবৈধ মাংস ব্যবসার বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়াতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।
