শ্যাডলি ফন শালকভিক: বিশ্বকাপে রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা নিয়ে উত্তেজনা
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব এখনো শেষ না হলেও, যুক্তরাষ্ট্রের পেস বোলিং অলরাউন্ডার শ্যাডলি ফন শালকভিক ইতিমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্সের কারণে, ২০২৪ বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের ফজলহক ফারুকি ও ভারতের অর্শদীপ সিংয়ের যৌথভাবে ধারণ করা সর্বোচ্চ ১৭ উইকেটের রেকর্ডটি হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে ক্রিকেট বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
গ্রুপ পর্বেই ১১ উইকেট: একটি অদ্ভুত সম্ভাবনা
প্রশ্ন উঠছে, গ্রুপ পর্ব এখনো চলমান থাকায় এই হিসাব কেন এখন আসছে? কারণ, শ্যাডলি মাত্র তিন ম্যাচেই ১১টি উইকেট নিয়েছেন, যা একটি অভূতপূর্ব কীর্তি। ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে তাঁর পারফরম্যান্স ছিল চমকপ্রদ—প্রতিটি ম্যাচে ২৫ রানে ৪টি করে উইকেট। এরপর নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে তিনি নিয়েছেন ২১ রানে ৩ উইকেট। এই ধারা অব্যাহত থাকলে, ফারুকি ও অর্শদীপের রেকর্ড ভাঙা অসম্ভব নয়।
হ্যাঁ না উত্তর: ক্রিকেটের অনিশ্চয়তা
উত্তরটি দ্বিমুখী। হ্যাঁ, কারণ ক্রিকেট মহা অনিশ্চয়তার খেলা। যদি যুক্তরাষ্ট্র সুপার এইটে ওঠে বা সেমিফাইনালে পৌঁছায়, তবে শ্যাডলির আরও ম্যাচ খেলার সুযোগ তৈরি হবে। ফারুকি ও অর্শদীপ তাদের রেকর্ড গড়তে ৮টি ম্যাচ খেলেছিলেন, কিন্তু শ্যাডলি এখনো মাত্র কয়েকটি ম্যাচে প্রভাব ফেলেছেন। না, কারণ গ্রুপ 'এ'-তে ভারত ও পাকিস্তানের মতো পরাশক্তির উপস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রসর হওয়া চ্যালেঞ্জিং।
শ্যাডলির উত্থান: দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে
৩৭ বছর বয়সী শ্যাডলি ২০১৯ সালে হঠাৎ করেই জন্মভূমি দক্ষিণ আফ্রিকা ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। তিনি মাইনর লিগের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেটে প্রবেশ করেন এবং সিয়াটলে বসবাস শুরু করেন। জ্যাক ক্যালিসের স্কুল থেকে আসা এই খেলোয়াড়ের পেশাদার ক্যারিয়ার প্রায় ১৮ বছর ধরে চলছে। ভারতের সাবেক ক্রিকেটার আকাশ চোপড়া মনে করেন, শ্যাডলি এখন তাঁর জীবনের দ্বিতীয় অধ্যায়ে পা রাখছেন এবং বয়সের সাথে তীক্ষ্ণ মস্তিষ্ক কাজে লাগাচ্ছেন।
সাফল্যের অনুভূতি ও ভবিষ্যৎ
শ্যাডলি তাঁর সাফল্যকে স্বপ্নের মতো বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘বাস্তব বলে মনে হচ্ছে না। আমার ক্রিকেট-জীবনে সবচেয়ে অদ্ভুত অভিজ্ঞতা হচ্ছে।’ তাঁর ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপে শত শত বার্তা আসছে, যার মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার রিজা হেনড্রিকসের মতো পুরোনো বন্ধুরাও আছেন। শ্যাডলি বিশ্বাস করেন, যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে, সিয়াটলে পাঁচটি ক্রিকেট একাডেমিতে শতাধিক শিশু-কিশোর প্রশিক্ষণ নিচ্ছে।
এই বিশ্বকাপে শ্যাডলির পারফরম্যান্স যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেট ভবিষ্যতের জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে। যদিও বয়স বা সময় নিয়ে তিনি ভাবতে চান না, তাঁর লক্ষ্য হলো সম্ভাব্য সর্বোচ্চ উপভোগ করা। ক্রিকেট মহল এখন শ্যাডলির পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছে, যেখানে একটি রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে।
