ক্রীড়াঙ্গনে দুর্নীতির অভিযোগে এনসিপি নেতার তীব্র প্রতিক্রিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক দুর্নীতি ও অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দেওয়া একটি পোস্টে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আপনাদের নোংরামিতে নিজেকে জড়াতে চাই না।” তার এই মন্তব্য ক্রীড়া জগতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ
আসিফ মাহমুদ তার পোস্টে সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৬ আসনে পরাজিত এক প্রার্থীকে ইঙ্গিত করেন। তিনি দাবি করেন, গত দেড় বছরে ক্রীড়া খাতে কাজ করতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি বাধার মুখে পড়েছেন এই ব্যক্তির কাছ থেকে। সাবেক এই উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, “নির্বাচনে পরাজিত হয়ে মনে মনে ক্রীড়া মন্ত্রী হয়ে বসে থাকা একজনের মাথা নষ্ট হয়ে গেছে।” তার মতে, এই ব্যক্তি বারবার ব্যর্থ হয়েও থামেননি এবং এখন নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার ক্ষোভ তার ওপর দেখাচ্ছেন।
ফুটবল ও ক্রিকেট বোর্ডে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা
আসিফ মাহমুদের অভিযোগ অনুযায়ী, এই প্রার্থী প্রথমে ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) দখল করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ব্যর্থ হন। এরপর তিনি ফুটবলের উন্নয়নে বর্তমান বাফুফে নেতৃত্ব এবং সরকারকে বাধা দিতে থাকেন। একইভাবে ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) একজন ক্রিকেটারকে সামনে রেখে নিজের ইচ্ছামতো লোক আনতে চাওয়ার চেষ্টা করেন। আসিফ মাহমুদ বলেন, “আমি পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পদে পদে অসহযোগিতা আর বাধার সম্মুখীন হয়েছি।”
সার্চ কমিটি ব্যবহার করে ফেডারেশন দখলের উদ্যোগ
ক্রীড়াঙ্গন সংস্কারের জন্য গঠিত সার্চ কমিটির সদস্যকে ব্যবহার করে বিভিন্ন ফেডারেশনের কার্যালয় দখলের চেষ্টার কথাও উল্লেখ করেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, শুরুর দিকে এই প্রার্থীর পরামর্শে সার্চ কমিটিতে একজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে সেই ব্যক্তি ফেডারেশন কার্যালয় দখল শুরু করলে তাকে অপসারণ করা হয়। অপসারণের পর ওই ব্যক্তিকে দিয়ে আসিফ মাহমুদের নামে মামলা করানো হয়েছিল। তিনি বলেন, “সরকারে থেকেও মামলা খেয়েছি ক্রীড়াঙ্গনের মাফিয়াদের মাধ্যমে।”
ক্রীড়াঙ্গনে মাফিয়া চক্র ও অপপ্রচারের অভিযোগ
আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, ক্রীড়াঙ্গনে দীর্ঘদিনের ‘মাফিয়া চক্র’ সরিয়ে সংস্কার কার্যক্রম চালানো হয়েছে এবং এর সুফল ইতোমধ্যে দৃশ্যমান। তিনি বলেন, ফুটবল, ক্রিকেটসহ প্রায় সব ক্রীড়া ক্ষেত্রে যুগ-যুগের মাফিয়াদের হটিয়ে দেওয়া হয়েছে, যার ফলাফল দেশবাসী মাত্র দেড় বছরের মধ্যেই দেখতে পাচ্ছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ তোলেন যে, স্পোর্টস মিডিয়ার একটি অংশকে ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, “স্পোর্টস মিডিয়া দখলের মাধ্যমে যাচ্ছেতাই আক্রমণ চালানো হচ্ছে আমার বিরুদ্ধে।”
নীরবতা ভাঙার কারণ
আসিফ মাহমুদ তার পোস্টে উল্লেখ করেন, দেড় বছর ধরে তিনি ভদ্রতা এবং নীরবতার সঙ্গে কাজ করে গেছেন, কিন্তু এখন আর চুপ থাকা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “আপনাদের অপকর্ম নিয়ে মুখ খুলিনি বলে ভাববেন না যে কথা বলতে পারি না। বাধ্য করবেন না, আপনাদের নোংরামিতে নিজেকে জড়াতে চাই না।” তার এই বক্তব্য ক্রীড়াঙ্গনে সংস্কার ও স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে।
