ঈদের ছুটিতে বেড়েছে সড়ক দুর্ঘটনা, রাজধানীর নিটোরে চিকিৎসা নিচ্ছেন শতাধিক আহত
ঈদে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত শতাধিক, নিটোরে চিকিৎসা

ঈদের ছুটিতে সড়ক দুর্ঘটনায় বাড়ছে আহতের সংখ্যা

ঈদুল ফিতরের ছুটিতে দেশের বিভিন্ন সড়ক, রাজধানীসহ, প্রায় ফাঁকা থাকায় বেপরোয়া গতিতে চলছে যানবাহন। মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার ও সিএনজি চালিত অটোরিকশার এই দ্রুতগতি সড়ক দুর্ঘটনা বাড়িয়ে দিচ্ছে, যার ফলে প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

নিটোর হাসপাতালে ঈদে চিকিৎসা নিয়েছেন ৪০০ রোগী

ঈদের আগের রাত থেকে রোববার (২২ মার্চ) বিকাল ৩টা পর্যন্ত রাজধানীর জাতীয় আঘাত ও অর্থোপেডিক পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন প্রায় ৪০০ রোগী। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এদের মধ্যে বেশিরভাগই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার।

রোববার বিকাল ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত নিটোর জরুরি বিভাগের সরেজমিন পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, আহত রোগীরা একের পর এক চিকিৎসার জন্য আসছেন। এদের মধ্যে একজন হলেন বিপ্লব। তার বন্ধুরা তাকে ট্রলিতে করে জরুরি বিভাগে নিয়ে এসেছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিপ্লব জানান, তাদের বাড়ি যাত্রাবাড়ি এলাকায়। দুপুর ১২টার পর তিনি দুই বন্ধুকে নিয়ে মোটরসাইকেলে বেড়াতে বের হন। স্থানীয় একটি সড়কে চলার সময় একটি সিএনজি তাদের ধাক্কা মারে, যার ফলে তারা মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যান। এতে তার ডান পায়ের হাঁটুর নিচের অংশে গুরুতর আঘাত লাগে।

গাজীপুর যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার শিকার মানিক

আরেক আহত মানিক বলেন, তিনি মোটরসাইকেলে করে গাজীপুর যাচ্ছিলেন। পথে একটি সিএনজি পেছন থেকে ধাক্কা দিলে তিনি রাস্তায় পড়ে যান। এতে তার ডান গোড়ালি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয় একটি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি নিটোরে আসেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শুধু এই দুইজন নন, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত অনেক মানুষই চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতালে আসছেন। হাসপাতাল সূত্রে বলা হয়, জরুরি বিভাগে আসা রোগীদের একটি বড় অংশ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার, যার মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা সবচেয়ে বেশি। কারও হাত ভাঙা, কারও পা ভাঙা, আবার কেউ কেউ ছোটখাটো আঘাতের চিকিৎসা নিচ্ছেন।

জরুরি বিভাগে চাপ মোকাবিলায় বাড়তি ব্যবস্থা

নিটোর জরুরি বিভাগে ১০টি শয্যা থাকলেও রোগীর চাপ খুব বেশি। অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের স্ট্রেচারে শুয়েই চিকিৎসা দেওয়া হতে দেখা গেছে। জরুরি বিভাগে তিনজন চিকিৎসক রোগী দেখছেন। তাদের পাশাপাশি ৭-৮ জন নার্স ও সহায়ক কর্মী নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিচ্ছেন। এ সময় বেশ কয়েকজন রোগীকে অপারেশনের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।

জরুরি বিভাগের একজন নার্স জানান, অন্যান্য দিনের তুলনায় ঈদের দিন ও ছুটিতে রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. ইহসানুল কবির বলেন, “সাধারণ দিনের তুলনায় ঈদের ছুটিতে রোগীর চাপ অনেক বেশি। ঈদের আগের রাত (চাঁদ রাত) থেকে আজ বিকাল ৩টা পর্যন্ত প্রায় ৪০০ রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ঈদের আগের রাত ১২টা থেকে গত রাত ১২টা পর্যন্ত ২৬৬ জন চিকিৎসা নিয়েছেন, যাদের মধ্যে ৬১ জন ভর্তি হয়েছেন। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছাড়া পেয়েছেন।”

তিনি আরও যোগ করেন, ঈদের দিন রাত ১২টা থেকে আজ বিকাল ৩টা পর্যন্ত ১২৭ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ৪১ জন ভর্তি হয়েছেন এবং বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন।

গত বছরের তুলনায় এবার মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বেশি

নিটোরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কিনান বলেন, “প্রতি বছর ঈদের ছুটিতে সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ে এবং এর ফলে রোগীর চাপ বাড়ে। গত বছর তিন চাকার যানবাহনের দুর্ঘটনা বেশি ছিল, কিন্তু এবার মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বেশি দেখা যাচ্ছে।”

তিনি উল্লেখ করেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিটি শিফটে ১৮ জন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করছেন এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত জনবল প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এদিকে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ডিএমসিএইচ) পুলিশ আউটপোস্টের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মো. ফারুক বলেন, প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনা ও অন্যান্য কারণে আহত অনেক মানুষ চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসেন। শুধু ঈদের দিনেই ডিএমসিএইচ জরুরি বিভাগে ১৫১ জন চিকিৎসা নিয়েছেন, যাদের অধিকাংশই সড়ক দুর্ঘটনায় আহত।

সর্বোপরি, বিশেষজ্ঞরা ঈদের ছুটিতে সড়ক ব্যবহারে সতর্কতা ও গতি সীমার মধ্যে যানবাহন চালানোর পরামর্শ দিচ্ছেন, যাতে করে এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব হয় এবং সকলের জন্য নিরাপদ ঈদ নিশ্চিত করা যায়।