নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় অপহরণের পর ইসমাইল হোসেন কামাল (৪৫) নামে এক ব্যবসায়ীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলার নাটেশ্বর ইউনিয়নের পশ্চিম নাটেশ্বর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নুরনবী নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ। নিহত কামালের আত্মীয়-স্বজনদের দাবি, নুরনবী ও তার সহযোগিদের আঘাতের ফলে এ মৃত্যু হয়েছে।
নিহতের পরিচয় ও লাশ উদ্ধার
পুলিশ জানায়, নিহত ইসমাইল হোসেন কামাল পশ্চিম নাটেশ্বর গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে। তিনি পেশায় স্থানীয় দিঘীরজান বাজারের একজন ব্যবসায়ী। খবর পেয়ে সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সোনাইমুড়ী থানা পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য মঙ্গলবার সকালে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সোমবার রাতে ভিকটিম কামালের দিঘীরজান বাজারের দোকানে আসেন তার চাচাতো বোনের ছেলের শ্বশুর নুরনবী (৬৪)। তিনি পারিবারিক একটি সমস্যা সমাধানের কথা বলে কামালকে তার বাড়িতে যাওয়ার অনুরোধ করেন। অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে কামাল, নুরনবী এবং কামালের চাচাতো বোনের স্বামী আবু জাহের একটি অটোরিকশায় পশ্চিম নাটেশ্বর তেলি বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। অটোরিকশার পেছনে বসেন কামাল ও নুরনবী এবং সামনে বসেন আবু জাহের।
ঘটনার পরবর্তী অবস্থা
সূত্র জানায়, গাড়িটি দিঘীরজান বাজারের পশ্চিম মাথায় পৌঁছানোমাত্রই হঠাৎ নুরনবী পেছন থেকে চিৎকার করে ওঠেন এবং বলেন যে কামাল গাড়ি থেকে পড়ে গেছে। তাৎক্ষণিক আবু জাহের গাড়ি থামিয়ে নেমে দেখেন কামাল অচেতন অবস্থায় সড়কে পড়ে আছেন। এ সময় আবু জাহেরের চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসতে থাকলে, সন্দেহভাজন নুরনবী ওই অটোরিকশাটি নিয়েই দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে কেটে পড়েন।
উপস্থিত লোকজন কামালকে উদ্ধার করে দ্রুত বেগমগঞ্জের চৌমুহনী হলি কেয়ার হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেফার করেন। পরে স্বজনরা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ জানায়, নিহত কামালের আত্মীয়-স্বজনদের অভিযোগ, নুরনবীসহ তার সহযোগীরা অপহরণ করে আঘাতের ফলে কামালের মৃত্যু হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য
সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, ‘নিহত কামালের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরিকালে মাথার পেছনে হালকা থেতলানো জখম এবং বাঁ চোয়াল ফোলা অবস্থায় পাওয়া গেছে। তবে ওই আঘাতেই তার মৃত্যু হয়েছে কিনা তা লাশের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার আগ পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নুর নবীকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। পরিবার অভিযোগ দিলে সে অনুযায়ী তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’



