শরীয়তপুরে ককটেল বিস্ফোরণে আতঙ্ক, শিশুর হাত উড়ে গেল
শরীয়তপুরে ককটেল বিস্ফোরণে আতঙ্ক, শিশুর হাত উড়ে গেল

শরীয়তপুরের জাজিরায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। গত বছর ৫ এপ্রিল বিলাসপুর ইউনিয়নের দূর্বাডাঙ্গা এলাকায় বালতি হাতে দুই দল মানুষ ছুটছিল আর ককটেল ছুড়ছিল। তখন থেকেই আলোচনায় আছে ওই এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা।

গত ৮ জানুয়ারির ঘটনা

চলতি বছর ৮ জানুয়ারি ওই এলাকায় ককটেল তৈরি করতে গিয়ে বিস্ফোরণে তিনজন নিহত হন। এরপর পুলিশ ওই এলাকায় ব্যাপক অভিযান চালায় এবং ককটেল তৈরির কারখানার সন্ধান পায়। পুলিশ সেখান থেকে ককটেল ও ককটেল তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করে।

শিশু আহতের ঘটনা

গত শুক্রবার বিলাসপুরের পাশের চরধুপুর চরকান্দি এলাকায় ফসলি জমিতে পাওয়া ককটেল নিয়ে খেলার সময় বিস্ফোরণে রাহাত (১০) নামের এক শিশুর হাতের কবজি উড়ে গেছে। তাকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ওই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আবারও ককটেল বিস্ফোরণ

গত রোববার ওই এলাকার জানখারকান্দি গ্রামের একটি কবরস্থানের পাশের বাগানে ককটেল বিস্ফোরণ হয়। এতে এলাকার বাসিন্দারা নতুন করে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। ওই ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।

পুলিশের বক্তব্য

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহাম্মেদ প্রথম আলোকে বলেন, গত শুক্রবার ফসলি জমি থেকে পাওয়া ককটেল বিস্ফোরণে যে শিশু আহত হয়েছে, তার পরিবারের সদস্যরা এ বিষয়ে এখনো কোনো মামলা করেনি। পুলিশও কোনো মামলা করেনি। আর রোববার বিলাশপুরের জানখারকান্দি গ্রামের একটি কবরস্থানের পাশের বাগানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় তেমন উল্লেখযোগ্য আলামত এখনো পাওয়া যায়নি। তাই একটি জিডি করে তদন্তকাজ করা হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয়দের উদ্বেগ

আহত শিশু রাহাতের চাচা চুন্নু মাদবর প্রথম আলোকে বলেন, বাড়ির পাশের ফসলি জমিতে ককটেল কীভাবে এল, তা আমরা বুঝতে পারছি না। পুলিশও কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি। আমরা এখন আতঙ্কের মধ্যে আছি। রাহাতের হাতে ককটেল বিস্ফোরণের দুই দিন পর বিলাশপুরে আবার বিস্ফোরণ আমাদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

রাজনৈতিক বিরোধ

জাজিরা থানা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, জাজিরার বিলাসপুরের রাজনীতি নিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কুদ্দুস ব্যাপারী ও পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুল জলিলের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ রয়েছে। ওই বিরোধের জের ধরে গত এক বছরে বিলাসপুরে অন্তত পাঁচটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যার প্রতিটিতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।

গত ৮ জানুয়ারির মামলা

গত ৮ জানুয়ারি ইউপি চেয়ারম্যান কুদ্দুস ব্যাপারীর সমর্থকেরা তার মুলাই ব্যাপারীকান্দি এলাকার বাড়ির কাছে ককটেল তৈরি করছিলেন। তখন সেখানে বিস্ফোরণ ঘটে। ওই বিস্ফোরণে তিনজন নিহত হন। ওই ঘটনায় জাজিরা থানার উপপরিদর্শক আবুল কালাম বাদী হয়ে ৫৩ ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। ওই মামলায় কুদ্দুস ব্যাপারী ও তার তিন ভাইকে আসামি করা হয়েছে। ওই মামলার সব আসামি আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন।

মামলার অগ্রগতি

মামলাটি তদন্ত করছেন জাজিরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুস সালাম। গত ৬ মাসেও ওই মামলার তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র দিতে পারেননি। জানতে চাইলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ককটেল বিস্ফোরণে তিন ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে, যার কারণে সময় লাগছে। এ ছাড়া মৃত ব্যক্তিদের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এখনো হাতে আসেনি। আর বিস্ফোরণের পর সেখান থেকে যেসব আলামত উদ্ধার করা হয়েছে, তার রাসায়নিক (ফরেনসিক) পরীক্ষা করছে সিআইডি। সেই প্রতিবেদনও এখনো আসেনি। আমরা চেষ্টা করছি, দ্রুত তদন্ত কাজ শেষ করার জন্য।

শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ

অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য বিলাসপুরে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর কাজ চলছে। বিলাসপুরে স্থায়ীভাবে শান্তি স্থাপন করার জন্য একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তানভীর হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, বিলাসপুরে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ কাজ করছে। কয়েক দফা অভিযান চালিয়ে ককটেল তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। বেশ কিছু মামলা হয়েছে, মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই সকল মামলার আসামিরা বিভিন্ন আদালত থেকে জামিনে আছেন। আমরা তাদের ওপরে নজর রাখছি। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য বিলাসপুরে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর কাজ চলছে। বিলাসপুরে স্থায়ীভাবে শান্তি স্থাপন করার জন্য একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।