বান্দরবানে বাস দুর্ঘটনা: গাছে আটকে রক্ষা পেল ৪৪ যাত্রীর প্রাণ
বান্দরবানের সুয়ালক এলাকায় আজ রোববার ভোরে একটি বাস দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ঢাকা থেকে বান্দরবানগামী এই বাসটি খাদে পড়ে গেলেও গাছের কারণে গভীর খাদে পড়া থেকে রক্ষা পায় ৪৪ জন যাত্রীর জীবন। তবে দুর্ঘটনায় ১৫ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে বান্দরবান সদর হাসপাতালের চিকিৎসকরা।
দুর্ঘটনার বিবরণ
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, বাসটি সাতকানিয়ার হলুদিয়া পার হয়ে বান্দরবানের এক কিলোমিটার ভেতরে এসে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাহাড়ে গড়িয়ে যায়। ঢালু পাহাড়ি খাদের দিকে গড়িয়ে যাওয়ার সময় বাসটি গাছে আটকে যায়, যা একটি বড় বিপর্যয় রোধ করে। যাত্রীদের অভিযোগ, চালক দ্রুতগতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন এবং আঁকাবাঁকা পাহাড়ি সড়কে বাঁক ঘোরানোর সময় নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেননি।
বান্দরবান সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ধীমন দাশ জানিয়েছেন, ভোরে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর তিনজনসহ ১৫ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। গুরুতর আহতরা হলেন:
- পল্লব দাশ (২৮)
- চিরঞ্জীব সেন (২৭)
- প্রিয়তম দাশ (২০)
তাদের সবার বাড়ি পুরান ঢাকায় এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত বাকি ১২ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তারা চলে গেছেন।
চালকের দায়িত্বহীনতা
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মান্না দে জানিয়েছেন, চালকের দ্রুতগতিতে চালানোর কারণেই বাসটি দুর্ঘটনায় পড়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে বাসটি গড়িয়ে যাওয়ার সময় গাছে আটকে যাওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে। ঘটনার পর থেকে চালক পলাতক রয়েছেন, যা তদন্তকে জটিল করে তুলছে।
যাত্রীদের পরিচয়
দুর্ঘটনায় জড়িত বাসটিতে বান্দরবানের কয়েকজন স্থানীয় যাত্রী ছাড়া অধিকাংশই পর্যটক ছিলেন বলে জানা গেছে। যাত্রী আল আমিন ও অন্যান্যদের মতে, চালককে কয়েকবার সতর্ক করা সত্ত্বেও তিনি গতি কমাননি, যা এই দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
এই ঘটনা পার্বত্য চট্টগ্রামের সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার তদন্ত জোরদার করেছে এবং আহতদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নিয়েছে।



