ঈদের আনন্দে মানবিকতার ছোঁয়া: নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে রোগী ও চিকিৎসকদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ
ঈদুল ফিতরের দিনটি সাধারণত আনন্দ, উৎসব আর পরিবারের মিলনমেলার জন্য উৎসর্গিত। তবে এই উৎসবের দিনেও অনেক মানুষ হাসপাতালের শয্যাশায়ী, চিকিৎসা সেবায় ব্যস্ত বা রাস্তায় দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় থাকেন। এমনই মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে এগিয়ে এসেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন টিম খোরশেদ এবং ওয়ার্কিং ফর বেটার নারায়ণগঞ্জ।
হাসপাতালে উপহার বিতরণ: রোগী ও চিকিৎসকদের মুখে হাসি ফোটানো
শনিবার সকালে ঈদের নামাজ শেষে সংগঠন দুটির টিম লিডার মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ-এর নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুরে অবস্থিত ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে একটি বিশেষ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এখানে চিকিৎসাধীন রোগী, তাদের স্বজন এবং দায়িত্বরত চিকিৎসক ও নার্সদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়। উপহারের প্যাকেটে ছিল তরল দুধ, আপেল, কেক ও বিস্কুট।
ঈদের দিনে এই উপহার পেয়ে রোগী ও তাদের স্বজনরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী আশরাফ আলী বলেন, ‘ঈদের দিনে উপহার পেয়ে আমরা আনন্দিত। এই আনন্দের দিনেও তারা আমাদের মনে রেখেছে, এটা অনেক ভালো লাগছে।’ এক রোগীর স্বজন মো. তাহের যোগ করেন, ‘অসুস্থ রোগী নিয়ে হাসপাতালে থাকতে হচ্ছে, ঈদ উদযাপনের সুযোগ নেই। কিন্তু এই উপহার পেয়ে মনে হচ্ছে, আমরাও ঈদের আনন্দের বাইরে নই।’
ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদেরও শুভেচ্ছা: সমাজের বিভিন্ন স্তরে পাশে দাঁড়ানো
নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালেও একইভাবে রোগী ও নার্সদের মাঝে উপহার বিতরণ করা হয়। এরপর শহরের চাষাঢ়া ও ২ নম্বর রেলগেট এলাকায় দায়িত্ব পালনরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের হাতে ঈদের শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেওয়া হয়। উদ্যোক্তারা জানান, ঈদের দিনেও যারা দায়িত্ব পালন করছেন বা অসুস্থতার কারণে পরিবার থেকে দূরে রয়েছেন, তাদের মুখে হাসি ফোটাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ করোনা সংকটকালে মরদেহ দাফন, খাবার বিতরণসহ নানা মানবিক উদ্যোগের কারণে ইতিমধ্যে আলোচিত হয়েছেন। তিনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এ বিষয়ে মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ বলেন, ‘ঈদের আনন্দ যখন পরিবারকেন্দ্রিক, তখন অনেকেই দায়িত্ব বা অসুস্থতার কারণে সেই আনন্দ থেকে বঞ্চিত হন। হাসপাতালে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের সেবায় নিয়োজিত নার্স স্বজনদের ছেড়ে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা রোদে পুড়ে আমাদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখেন, তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সামাজিক দায়িত্ব। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’
খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রমে খোরশেদের সঙ্গে আনোয়ার মাহমুদ, বাচ্চু ব্যাপারী, শওকত খন্দকার, আফজাল হোসেনসহ সংগঠনের অন্য স্বেচ্ছাসেবীরা উপস্থিত ছিলেন। এই উদ্যোগটি নারায়ণগঞ্জে ঈদের দিনে মানবিকতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে স্থান পেয়েছে, যা সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের প্রতি সহমর্মিতা ও সমর্থন প্রদর্শন করে।



