ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে শিশু হত্যার মর্মান্তিক ঘটনা
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় এক চার বছর বয়সী শিশুর লাশ প্রতিবেশীর রান্নাঘরের চুলার ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সন্ধ্যার আগে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পুলিশের ধারণা, শিশুটির গলায় থাকা একটি রুপার চেইন ছিনিয়ে নিতে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।
শিশুটির পরিচয় ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা
নিহত শিশুর নাম মরিয়ম আক্তার। তার বয়স ছিল মাত্র চার বছর। সে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের মারুয়াখালি গ্রামের মিজানুর রহমান ও রিমা আক্তার দম্পতির কন্যা সন্তান। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই শিশুটি নিখোঁজ ছিল। পরিবারের লোকজন তাকে না পেয়ে দিনভর আশপাশে হন্যে হয়ে খোঁজাখুঁজি করেন।
ইফতারের আগমুহূর্তে এক প্রতিবেশীর বাড়ির রান্নাঘরের চুলার ভেতরে শিশুটির লাশ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ওই প্রতিবেশী ও তার ১৬ বছর বয়সী কিশোর ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয়দের বক্তব্য ও পুলিশের তদন্ত
স্থানীয় বাসিন্দা সুমন মিয়া জানান, 'কিশোরটি নেশাগ্রস্ত। শিশুটির গলায় থাকা একটি রুপার চেইন ছিনিয়ে নিয়ে তাকে হত্যা করেছে বলে আমরা ধারণা করছি।' পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মরিয়ম আক্তারের গলায় ১২ আনা ওজনের রুপার একটি চেইন ছিল। নেশার টাকার জন্য সেই চেইন ছিনিয়ে নিতে চেষ্টা করে ওই কিশোর।
শিশুটি কান্না শুরু করলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে নিজেদের রান্নার চুলার ভেতর ঢুকিয়ে রাখে। পরে সেই রুপার চেইন আঠারবাড়ি বাজারের একটি দোকানে নিয়ে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য ও আইনি পদক্ষেপ
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম বলেন, 'শিশুটির গলায় থাকা রুপার চেইনের জন্য হত্যার ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত কিশোরকে আমরা হেফাজতে নিয়েছি। তার বাবাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ময়মনসিংহ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।'
এই ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায়ে তীব্র শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ দ্রুত তদন্ত চালিয়ে অপরাধীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছে। শিশু হত্যার মতো জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিরও আহ্বান জানানো হচ্ছে।



