ঈদুল ফিতরের ছুটিতে সুস্থ থাকার গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
ঈদে সুস্থ থাকার টিপস: বদহজম, ডায়রিয়া থেকে সতর্কতা

ঈদুল ফিতরের ছুটিতে সুস্থ থাকার অপরিহার্য গাইড

পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি শুরু হয়েছে, যা দীর্ঘ সময় ধরে চলবে। এই ছুটিতে অনেকেই গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন বা বেড়ানোর পরিকল্পনা করছেন। যাই করুন না কেন, ঈদ ও এর পরবর্তী সময়ে সুস্থ থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় বেশিরভাগ হাসপাতাল ও ক্লিনিকে জরুরি বিভাগ ছাড়া সাধারণ বহির্বিভাগ বা চিকিৎসকের চেম্বার বন্ধ থাকে, তাই স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।

বদহজমের সমস্যা ও সমাধান

এক মাস রোজা রাখার পর অনিয়ন্ত্রিত ও অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণের ফলে অনেকের বদহজম হতে পারে। পেটব্যথা, টক ঢেকুর, গলা জ্বলা, বুক জ্বালা করা বা পেট ফাঁপা বদহজমের সাধারণ লক্ষণ। এমন সমস্যা দেখা দিলে গ্যাস্ট্রিক ও রিফ্লাক্স কমানোর ওষুধ সেবন করা যেতে পারে। হজমে সমস্যা হলে হালকা ও সহজপাচ্য খাবার খাওয়া উচিত।

বেশি করে পানি পান করুন এবং কাঁচা আদা বা সেদ্ধ করা আদার টুকরো চিবিয়ে বা পানিতে বা চায়ে মিশিয়ে খেতে পারেন। খানিকটা মৌরি চিবিয়ে খেলেও হজমে সাহায্য করে। এক গ্লাস পানিতে আধা চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে পান করলে অ্যাসিডিটি দূর হয়, যা বদহজম কমাতে সহায়ক।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ডায়রিয়া প্রতিরোধ ও চিকিৎসা

কারও কারও এ সময় পাতলা পায়খানা অথবা ডায়রিয়া শুরু হতে পারে। ডায়রিয়া হলে অবশ্যই খাওয়ার স্যালাইন পান করবেন এবং যতবার টয়লেটে যাবেন, ততবার কয়েক চুমুক করে স্যালাইন খেতে হবে। ছুটিতে পর্যাপ্ত স্যালাইনের প্যাকেট মজুত রাখা উচিত। ভাজাপোড়া না খেয়ে এ সময় ভেজানো চিড়া, পাতলা জাউ, কাঁচা কলা বা পেঁপের তরকারি খেলে পেটে আরাম পাওয়া যায়। পানিশূন্যতা যেন না হয়, সে দিকে বিশেষ লক্ষ রাখুন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জ্বর-কাশির মোকাবিলা

ঈদুল ফিতরের এ ছুটিতে অনেকেই জ্বর–কাশিতে আক্রান্ত হতে পারেন, কারণ মানুষের ভিড়ে, যাত্রাপথে ও স্টেশনে ঘাটে ভাইরাস ছড়ায় বেশি। জ্বর হলে বিশ্রাম নিন এবং প্যারাসিটামল খান। প্রচুর পানি পান করুন এবং কাশির জন্য সাধারণ অ্যান্টিহিস্টামিন, তুলসী-আদা দিয়ে চা, লেবু-আদা চা ইত্যাদি গ্রহণ করতে পারেন।

কোষ্ঠকাঠিন্য এড়ানোর উপায়

কারও কারও ঈদের সময় ভাজাপোড়া খাওয়ার কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়। কোষ্ঠকাঠিন্য এড়াতে প্রচুর পানি পান করবেন এবং যথেষ্ট তাজা শাকসবজি, ফল খাবেন। সালাদ রাখুন প্রতি বেলায়। কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে ইসবগুলের ভুষি, চিয়া সিড বা বাজারে বিক্রীত ফাইবার পাউডার গুলে খেতে পারেন। বেশি তীব্র হলে গ্লিসারিন সাপোজিটরি ব্যবহার করা যায়।

ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ, ইমেরিটাস অধ্যাপক

এই পরামর্শগুলি অনুসরণ করে ঈদের ছুটিতে সুস্থ ও নিরাপদ থাকা সম্ভব। স্বাস্থ্যকর অভ্যাস বজায় রাখুন এবং যেকোনো জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।