লন্ডনে জানালা থেকে পড়ে শিশুর মৃত্যু: অভিযুক্ত মা জহিরা বিজাওয়ানি কারাগারে
লন্ডনে শিশুর মৃত্যু: অভিযুক্ত মা কারাগারে

লন্ডনে জানালা থেকে পড়ে শিশুর মৃত্যু: অভিযুক্ত মা জহিরা বিজাওয়ানি কারাগারে

লন্ডনের একটি আবাসিক ভবনের তিনতলার জানালা থেকে প্রায় ৩২ ফুট নিচে পড়ে শিশু মারিয়ামের মৃত্যুর মর্মান্তিক ঘটনায় অভিযুক্ত মা জহিরা বিজাওয়ানিকে (৪৩) কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। বুধবার (১৮ মার্চ) লন্ডনের ওল্ড বেইলি আদালতে এই মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিচারক মার্ক লুক্রাফ্ট কেসি পরবর্তী বিচারিক ধাপগুলোর সময়সূচি নির্ধারণ করেছেন।

আদালতের সিদ্ধান্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া

আদালতের রায় অনুযায়ী, আগামী ৩ জুন অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য করা হয়েছে। এছাড়া, মামলার নিয়মিত বিচার প্রক্রিয়া শুরুর সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৭ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি। বর্তমানে জহিরা বিজাওয়ানিকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রাখা হয়েছে, যা এই মামলার গুরুত্ব ও জটিলতা নির্দেশ করে।

তদন্ত প্রতিবেদন ও ঘটনার বিবরণ

আদালতে প্রসিকিউটর ফিলিপ ম্যাকঘি গত ১৪ মার্চের ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করেন। ফরেনসিক রিপোর্ট অনুযায়ী, গ্রেট পিটার স্ট্রিটে পরিবারের বাসভবনের তিনতলার জানালা থেকে পড়ে শিশু মারিয়ামের মাথায় গুরুতর চোট লাগে এবং খুলি ফেটে তার মৃত্যু হয়। তদন্তে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, অভিযুক্ত মা জহিরা একজন উচ্চশিক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞ, যিনি ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত লন্ডনের হার্লে স্ট্রিট ক্লিনিকে ক্লিনিক্যাল কো-অর্ডিনেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশের তদন্ত ও পারিবারিক প্রেক্ষাপট

মেট্রোপলিটন পুলিশের স্পেশালিস্ট ক্রাইম কমান্ড বর্তমানে সেই বাড়ির পরিবেশ এবং জহিরার উচ্চতর পেশাগত দক্ষতার বিপরীতে এই মর্মান্তিক ঘটনার যোগসূত্র খতিয়ে দেখছে। আদালতে জানানো হয়, গত শনিবার সকাল সাড়ে ৭টায় শিশুটির বাবা প্রথম জরুরি সেবা সংস্থা ৯৯৯-এ ফোন করেন। সে সময় তিনি রান্নাঘরে শিশুর খাবার তৈরি করছিলেন। জানালা দিয়ে পড়ে যাওয়ার পর তিনি দ্রুত নিচে নেমে শিশুটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। কয়েক মিনিটের মধ্যে লন্ডন অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটিকে একটি বড় ট্রমা সেন্টারে নিয়ে যায়, তবে সকাল ৯টায় চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ডিটেক্টিভ চিফ ইন্সপেক্টর অ্যালিসন ফক্সওয়েল নিশ্চিত করেছেন যে, ঘটনাটি পারিবারিক প্রেক্ষাপটে ঘটেছে এবং এই ঘটনায় অন্য কোনও সন্দেহভাজনকে খোঁজা হচ্ছে না। এই মামলাটি লন্ডনের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচারিক ব্যবস্থার কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে, যা শিশু সুরক্ষা ও পারিবারিক সহিংসতার বিষয়ে প্রশ্ন তুলছে।