ঈদে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষ নির্দেশনা
ঈদে হাসপাতালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা

ঈদে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষ নির্দেশনা

আসন্ন ঈদুল ফিতরের ছুটিতে দেশের সব সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাসেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। প্রতিষ্ঠানটির হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখা থেকে ১২ ও ১৬ মার্চ পৃথক দুটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে ডিউটি রোস্টার হালনাগাদ এবং জরুরি সেবা সচল রাখার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

ডিউটি রোস্টার হালনাগাদের নির্দেশনা

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সকল হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নাম, পদবি ও মোবাইল নম্বরসহ ডিউটি রোস্টার সর্বদা হালনাগাদ রাখতে হবে। রোস্টার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার স্বাক্ষরযুক্ত হতে হবে এবং অনুমোদন ছাড়া কোনো পরিবর্তন করা যাবে না। এছাড়া, ডিউটি রোস্টার দৃশ্যমান স্থানে টানিয়ে রাখতে হবে এবং এর একটি কপি প্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছে সংরক্ষণ করতে হবে।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টনে সমতা ও নিয়মিততা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ঈদের ছুটিতে হাসপাতালগুলোর কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ঈদে জরুরি চিকিৎসাসেবা চালু রাখার আহ্বান

রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জারি করা অন্য নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ছুটিকালীনও হাসপাতালগুলোতে জরুরি চিকিৎসাসেবা চালু রাখতে হবে। জরুরি বিভাগে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও কর্মচারীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া, হাসপাতালের বেড, অক্সিজেন, আইসিইউ, ল্যাব, ব্লাড ব্যাংক, সিটি স্ক্যান ও এমআরআইসহ সকল জরুরি সেবা সচল রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক ও কর্মীদের ছুটি বাতিল করা যেতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সার্বক্ষণিক তদারকি করতে হবে। সিভিল সার্জন ও বিভাগীয় পরিচালকরা নিজ নিজ এলাকায় সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবেন।

অতিরিক্ত সতর্কতা ও প্রস্তুতি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হাসপাতালগুলোর জন্য অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থাও নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু রাখা
  • পর্যাপ্ত ওষুধ ও সরঞ্জাম মজুত রাখা
  • হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা

এই পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে ঈদের সময়ে জনগণের চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই নির্দেশনা দেশব্যাপী স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

ঈদুল ফিতরের মতো বড় উৎসবে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সংক্রান্ত জরুরি প্রয়োজন মেটাতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন। সরকারি হাসপাতালগুলোতে সার্বক্ষণিক সেবা প্রদান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সহযোগিতা করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।