কুয়াকাটায় ইয়াবা সেবনে বাধা দিলে হোটেল মালিককে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জখম
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় আবাসিক হোটেল মালিক ইলিয়াস মৃধাকে লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১ মার্চ) সন্ধ্যায় কুয়াকাটা পৌরসভার পাঞ্জুপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত ইলিয়াস মৃধা হোটেল কুয়াকাটা প্যালেস-এর মালিক হিসেবে পরিচিত।
হামলার পটভূমি ও ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, রাখাইন নারী মার্কেটের ঝিনুক ব্যবসায়ী রাসেল খান ও মিরাজ নিয়মিতভাবে ইলিয়াস মৃধার হোটেলে গিয়ে ইয়াবা সেবন করতেন। হোটেল মালিক তাদের এই অসামাজিক কার্যকলাপে বাধা দিলে তারা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। হামলাকারীরা কুয়াকাটায় যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে ইলিয়াস মৃধার দুই পা থেঁতলে দেয়। এতে তার চারটি দাঁত পড়ে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে আহত ইলিয়াস মৃধাকে উদ্ধার করে কুয়াকাটার ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আহতের চিকিৎসা ও বর্তমান অবস্থা
কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, রাত সাড়ে ৭টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় ইলিয়াস মৃধাকে হাসপাতালে আনা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার অবস্থার অবনতি দেখা দেওয়ায় তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। বর্তমানে তার অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানানো হয়েছে।
আহত ইলিয়াস মৃধার মেয়ে সাজেদা বেগম বলেন, "রাসেল খান ও মিরাজ নিয়মিত আমার বাবার হোটেলে গিয়ে ইয়াবা সেবন করতেন। বাধা দেওয়ায় তারা হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়েছে। আমার বাবা এখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।"
অভিযুক্তদের সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া
অভিযুক্ত রাসেল খান ও মিরাজের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সভাপতি সৈয়দ ফারুক হোসেন বলেন, "মিরাজ যুবদল থেকে আগেই বহিষ্কৃত এবং অপর অভিযুক্ত ওয়ার্ড যুবদলের সদস্য রাসেল খানের দায় থেকে থাকলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এ বিষয়ে মহিপুর থানার পরিদর্শক মহব্বত খান জানান, "এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
এই ঘটনা কুয়াকাটা এলাকায় ইয়াবা সেবন ও সহিংসতার উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
