রাকসু জিএসের আত্মসমালোচনা: ভিসির গেইটে লাথি ও বিপদে ফেলার স্বীকারোক্তি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মার সাবেক উপাচার্য ড. সালেহ হাসান নকীবের বিদায় ঘিরে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। শুক্রবার (২০ মার্চ) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
আত্মসমালোচনামূলক বক্তব্য
আম্মার স্বীকার করেন যে, গত দেড় বছরে তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে উপাচার্যকে একাধিকবার বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে। তিনি লেখেন, ‘প্রত্যেকবার আমার জন্য বিপদে পড়তে হয়েছে এই মানুষটাকে।’ রাকসুর সদ্য বিদায়ী সভাপতির বিদায়ের মুহূর্ত তাকে ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নিজের কর্মকাণ্ড নিয়ে আত্মসমালোচনা করে আম্মার বলেন, ‘ভিসির গেইটে যত লাথি মারা হয়েছে, যতবার এই মানুষটাকে বিপদে ফেলেছি-আমি হয়তো তার জীবনের ছাত্র নামের এক আপদ হিসেবেই ছিলাম।’ তিনি স্বীকার করেন যে, পরিবর্তন আনার প্রয়াসে অনেক সময় নিয়ম ভেঙেছেন, এমনকি বেয়াদবি ও রূঢ় আচরণের মধ্য দিয়েও এগিয়েছেন।
অসৎ উদ্দেশ্য নেই দাবি
তবে তার দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না। আম্মার লেখেন, ‘আমি হয়তো ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যাব, অনেকেই স্বস্তি পাবে। কিন্তু স্যার মনে রাখবেন, এই ছেলেটার বিন্দুমাত্র অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না-এটা আল্লাহ সাক্ষী।’ তিনি বিদায়ী উপাচার্যের ভবিষ্যৎ জীবনের সফলতা কামনা করেন এবং গবেষণা ও একাডেমিক জীবনে আরও এগিয়ে যাওয়ার জন্য দোয়া চান।
প্রতিক্রিয়া ও প্রেক্ষাপট
প্রসঙ্গত, রাবি উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিয়েছেন ড. সালেহ হাসান নকীব। তার বিদায়কে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও, আম্মারের এই স্বীকারোক্তিমূলক পোস্ট বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে। এটি শিক্ষার্থী-প্রশাসন সম্পর্কের জটিল দিকগুলো তুলে ধরেছে এবং আত্মসমালোচনার মাধ্যমে একটি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছে।
এই ঘটনা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র নেতৃত্বের ভূমিকা এবং তাদের কর্মকাণ্ডের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, যা ভবিষ্যতে আরও গভীর বিশ্লেষণের দাবি রাখে।



