জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য পদে বহাল, ঈদের পর আসছে প্রো-ভিসি ও কোষাধ্যক্ষ বদল
দেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক পদে ব্যাপক পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। গত ১৬ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয় সাতটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। এই পরিবর্তনের তালিকায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) অন্তর্ভুক্ত না হলেও, ঈদুল ফিতরের পর প্রতিষ্ঠানটির প্রো-ভিসি ও কোষাধ্যক্ষ পদে বদল আসবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সাত বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ
শিক্ষামন্ত্রী প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। একইভাবে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক রইস উদ্দিন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিদ্দিকুর রহমান খান, ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক নুরুল ইসলাম এবং খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) অধ্যাপক মোহাম্মদ মাসুদ ভিসি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।
এছাড়াও, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক মো. আল ফোরকান ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম উপাচার্য পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনেও পরিবর্তন এসেছে, যেখানে অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজের পদত্যাগের পর নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।
জাবিতে উপাচার্য বহাল, প্রো-ভিসি ও কোষাধ্যক্ষ বদল ঈদের পর
সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ পদে এই রদবদল সত্ত্বেও, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ব্যতিক্রম হিসেবে রয়ে গেছে। এখানে বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান তার পদে বহাল আছেন, যা অনেকের কাছে বিস্ময়কর বলে মনে হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, জাবির বর্তমান প্রশাসনিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে সরকার এখনই উপাচার্য পরিবর্তনের প্রয়োজন বোধ করেনি।
তবে, উপাচার্য পদে স্থিতিশীলতা বজায় থাকলেও প্রো-ভিসি (প্রশাসন), প্রো-ভিসি (শিক্ষা) এবং কোষাধ্যক্ষ পদে পরিবর্তন আসবে। এই নিয়োগগুলো এখনই দেওয়া হচ্ছে না; পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটির পর এসব পদে নতুন ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানা যায়। আলোচনায় রয়েছে যে, জাবির একাধিক বিএনপিপন্থী শিক্ষক এসব পদে বিবেচনায় রয়েছেন, যা প্রশাসনিক পরিবর্তনের দিকে ইঙ্গিত করছে।
এই সিদ্ধান্তগুলো উচ্চশিক্ষা খাতের গতিশীলতা ও রাজনৈতিক প্রভাব প্রতিফলিত করতে পারে, বিশেষ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানে যেখানে প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ও পরিবর্তনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা জরুরি।



