চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ারুল আজিম আরিফের জীবনাবসান
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মো. আনোয়ারুল আজিম আরিফ মারা গেছেন। গতকাল বুধবার দিবাগত রাত ৩টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রাম নগরের এক বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরের তথ্য ও জনসংযোগ শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার খন্দকার মোয়াজ্জেম হোসেন প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানাজা ও শেষকৃত্য
ডেপুটি রেজিস্ট্রার খন্দকার মোয়াজ্জেম হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, আজ বেলা ১১টায় চট্টগ্রামের জামিয়াতুল ফালাহ মসজিদে সাবেক উপাচার্যের প্রথম জানাজা হবে। বাদ আসর সাতকানিয়ার ইছামতিকুলে উজির আলী চৌধুরী মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এই অনুষ্ঠানগুলোতে তাঁর পরিবার, বন্ধুবান্ধব, সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন
২০১১ সালের ১৪ জুন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬তম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় অধ্যাপক মো. আনোয়ারুল আজিম আরিফকে। তিনি ১৫ জুন ২০১১ থেকে ১৪ জুন ২০১৫ পর্যন্ত চার বছর এ দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়টি শিক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করে।
কর্মজীবন ও অবদান
অধ্যাপক আনোয়ারুল আজিম আরিফ কর্মজীবন শুরু করেন ১৯৭৬ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে। পরবর্তী সময়ে ২০০১ সালে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি তিনি প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের উপাচার্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া তিনি সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান ছিলেন এবং ২০২১ সালে ইসলামিক ব্যাংকস কনসালটেটিভ ফোরামের (আইবিসিএফ) নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের এমবিএ প্রোগ্রামের প্রতিষ্ঠাতাও তিনি।
ব্যক্তিগত জীবন
তাঁর জন্ম ১৯৫১ সালের ১ মে চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া পৌরসভার ইছামতিকুল ৮ নম্বর ওয়ার্ডে। তাঁর পিতা সাইদুর রহমান। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি তিন পুত্রসন্তানের জনক ছিলেন। তাঁর স্ত্রী জান্নাতুন্নেছা একজন গৃহিণী। পরিবার ও সমাজে তিনি একজন আদর্শ ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
অধ্যাপক আনোয়ারুল আজিম আরিফের মৃত্যু শিক্ষা ও ব্যাংকিং খাতে একটি অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাঁর অবদান ও স্মৃতি চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।



