বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গাছ কাটার প্রতিবাদ: পরিবেশ রক্ষায় শিক্ষার্থীদের সংগ্রাম
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গাছ কাটার প্রতিবাদ

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গাছ কাটার প্রতিবাদ: পরিবেশ রক্ষায় শিক্ষার্থীদের সংগ্রাম

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সম্প্রতি ক্যাম্পাসের বেশ কিছু গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি শুরুতে ছিল একটি বৃক্ষহীন ক্যাম্পাস, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এটি পরিণত হয়েছে একটি সমৃদ্ধ বৃক্ষ সংগ্রহশালায়। এখানে ৩৫০টির বেশি প্রজাতির বৃক্ষ রয়েছে, যার মধ্যে ফলদ, বনজ, ঔষধি ও দুর্লভ প্রজাতির গাছের সংখ্যা ৩৬ হাজারেরও বেশি। উদাল, সমুদ্রজবা, মাধবীলতা, হাতিবেল, নাগলিঙ্গমের মতো নানা প্রজাতির গাছ এই ক্যাম্পাসকে একটি উন্মুক্ত বোটানিক্যাল গার্ডেনে রূপান্তরিত করেছে।

গাছ কাটার ঘটনা ও প্রতিবাদ

১১ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে এলোপাতাড়িভাবে গাছ কাটা শুরু করে ঠিকাদারের লোকজন। ইরান যুদ্ধের অজুহাতে ঈদের ছুটি এগিয়ে আনা হয়, যার ফলে অনেক শিক্ষার্থী বাড়ি ফিরতে পারেনি। এই সুযোগে প্রায় ৪৫টি গাছ কেটে ফেলা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে গাছ কাটার অজুহাত হিসেবে বলা হয়, গাছের জঙ্গল তৈরি হয়েছে, কিছু গাছ অপুষ্টিতে ভুগছে, এবং নামাজের কাতার বাঁকা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে শিক্ষার্থীরা এসব যুক্তিকে চিড়া ভেজানো কথা বলে আখ্যায়িত করে প্রতিবাদ জানায়। তাদের এককাট্টা প্রতিবাদের মুখে গাছ কাটার কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।

আদালতের নির্দেশনা ও আইনি প্রেক্ষাপট

জানুয়ারি ২০২৫ সালে উচ্চ আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, গাছ কাটতে সরকারের অনুমোদন লাগবে। আদালত পরিবেশ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেন ঢাকা, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পৃথক কমিটি গঠনের জন্য, যেখানে পরিবেশবিদ, অধ্যাপক ও সমাজকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এছাড়া, ২০২৬ সালের বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ অধ্যাদেশ অনুযায়ী, অনুমতি ছাড়া গাছ কাটলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ তিন লক্ষ টাকা জরিমানা হতে পারে। এই আইনি কাঠামো সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অনুমতি ছাড়াই গাছ কাটার কাজ শুরু করে, যা আইনের লঙ্ঘন বলে মনে করা হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিবেশ রক্ষায় আহ্বান ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এই দুর্লভ বৃক্ষ সংগ্রহশালা রক্ষা ও প্রসারিত করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি দেশের সব পরিবেশসচেতন মানুষকে এই সংগ্রামে যোগ দিতে হবে। শহীদ আবু সাঈদের মতো দৃঢ়তায় দাঁড়িয়ে পরিবেশ রক্ষার এই লড়াইয়ে অংশ নেওয়া প্রয়োজন। শিক্ষার্থীরা আদালতের নিষেধাজ্ঞা আদেশ বা ইনজাংশন নেওয়ার দাবি তুলেছেন, এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। পরিবেশ রক্ষায় এই সংঘাত শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয় নয়, বরং এটি সমগ্র দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হিসেবে কাজ করতে পারে।

সবশেষে, এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, গাছ কাটা কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদের প্রতি আমাদের দায়িত্বের প্রতিফলন। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এই প্রতিবাদ পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনে নতুন প্রেরণা যোগাবে বলে আশা করা যায়।