বাকৃবির ডেপুটি ডিরেক্টর ফাসিউল্লাহ অপু নারী কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত, হ্যাকিং দাবি
বাকৃবির ডেপুটি ডিরেক্টর অপু নারী কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত

বাকৃবির ডেপুটি ডিরেক্টর ফাসিউল্লাহ অপু নারী কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত, হ্যাকিং দাবি

ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শারীরিক শিক্ষা বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর মো. শাহ ফাসিউল্লাহ অপুর বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তিনি বিভিন্ন বর্ষের ছাত্রীদের ডিজিটাল মাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ বার্তা পাঠিয়ে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে জড়িত বলে জানা গেছে।

ছাত্রীদের বিরক্তিকর বার্তা ও ফোন কল

বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যায়ামাগারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকার সুবাদে ফাসিউল্লাহ অপু বিভিন্নভাবে ছাত্রীদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করতেন বলে অভিযোগ। পরে রাতসহ বিভিন্ন সময়ে তিনি তাদের বার্তা পাঠিয়ে ও ফোন দিয়ে বিরক্ত করতেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানান, তারা মানসিক চাপ কমানো ও শারীরিকভাবে সুস্থ থাকার জন্য ব্যায়ামাগারে যেতেন। সেখানে ফাসিউল্লাহ অপু তাদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে জোর করে বন্ধুত্ব করতে চাইতেন এবং বিভিন্ন ধরনের বার্তা পাঠাতেন। বার্তার উত্তর না দিলে তিনি বারবার ফোন দিয়ে বিরক্ত করতেন, যা তাদের মানসিক চাপ বাড়িয়েছে।

স্ক্রিনশটে প্রমাণ ও হ্যাকিং দাবি

ডিজিটাল মাধ্যমে ছাত্রীদের কুরুচিপূর্ণ বার্তা পাঠিয়ে উত্ত্যক্ত করার স্ক্রিনশটে দেখা যায়, অভিযুক্ত কর্মকর্তা বিভিন্ন সময়ে লিখেছেন— ‘প্লিজ, একটু কথা বলো না’, ‘প্লিজ উত্তর দাও’, ‘উত্তর দাও না কেন’ ইত্যাদি। এমনকি একটি বার্তায় তিনি প্রস্তাব দেন— ‘চল আমরা বন্ধু হই। আমার দ্বারা তোমার ও তোমার পরিবারের উপকার ছাড়া কিছু হবে না। তুমি আমার সঙ্গে নির্দ্বিধায় কথা শেয়ার করতে পার। তোমার আর আমার মাঝে যা হবে, তা অন্য কেউ জানতে পারবে না। বিশ্বাস করো।’

অভিযোগের বিষয়ে মো. শাহ ফাসিউল্লাহ বলেন, ‘এগুলো অনেক পুরাতন বার্তা। হ্যাকাররা আমার ডিজিটাল মাধ্যমগুলো হ্যাক করে এসব বার্তা অন্যদের পাঠিয়েছে। আমি কখনো এসব বার্তা পাঠাইনি।’ তবে আইডি হ্যাক হওয়া নিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে কি-না জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিক্রিয়া

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘ফেসবুকের মাধ্যমে ঘটনাটি জানতে পেরেছি। তবে এর সত্যতা যাচাই করা হয়নি। ঘটনাটি নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলব।’ এই ঘটনা শিক্ষাঙ্গনে নারী নিরাপত্তা ও ডিজিটাল উত্ত্যক্তকরণের গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরছে, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি রাখে।