কানাডায় বাংলাদেশি সুলতানা রাজিয়ার দ্বিতীয়বার সিনেট সদস্য নির্বাচন: ইতিহাস গড়ার গল্প
কুমিল্লার তরুণী সুলতানা রাজিয়া কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলম্বিয়ায় দ্বিতীয়বারের মতো ছাত্র সিনেট সদস্য নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছেন। ১৩ মার্চ অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে তিনি বিপুল সমর্থন নিয়ে জয়লাভ করেন, যা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি উজ্জ্বল মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
নির্বাচনের বিস্তারিত বিবরণ
ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সিনেট নির্বাচনে সদস্য হিসেবে বিভিন্ন দেশের ১০ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন, যার মধ্যে দুজন ছিলেন বাংলাদেশি। সুলতানা রাজিয়া সেখানে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন। মোট ৬০ হাজার শিক্ষার্থী তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন, যা এই নির্বাচনের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।
সুলতানা রাজিয়ার ব্যক্তিগত ও শিক্ষাগত পটভূমি
সুলতানা রাজিয়া কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার পান্নারপুল এলাকায় অবস্থিত বি-বাড়ীয়া সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সত্ত্বাধিকারী রফিকুল ইসলাম আবুলের মেয়ে। তার পরিবার পার্শ্ববর্তী বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ফরদাবাদ গ্রামের বাসিন্দা। পারিবারিক সূত্র অনুযায়ী, তিনি ২০২২ সালে আইলট ফুল স্কলারশিপ নিয়ে ইউনিভার্সিটি অফ ব্রিটিশ কলম্বিয়ায় পড়াশোনা শুরু করেন।
২০২৩ সালে তিনি সর্বপ্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সিনেট সদস্য নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েন। বহুজাতিক শিক্ষার্থীদের পক্ষে তার বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ২০২৬ সালে তাকে পুনরায় সিনেট সদস্য নির্বাচিত করা হয়। বাংলাদেশের সন্তান হিসেবে আন্তর্জাতিক মানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব করতে পারায় এলাকাবাসী তার সাফল্যে গর্ববোধ করছেন।
সুলতানা রাজিয়ার বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সুলতানা রাজিয়া বলেন, "২০২২ সালে আমি আইলট ফুল স্কলারশিপে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই। ২০২৩ সালে আমি প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে শিক্ষার্থীদের সিনেটর নির্বাচিত হই এবং সিনেটে বহুজাতিক শিক্ষার্থীদের পক্ষে যথাযথ দায়িত্ব পালন করি। এতে ২০২৬ সালে শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয়বারের মতো আমাকে সিনেটের সদস্য নির্বাচিত করে।"
তিনি আরও যোগ করেন, "সিনেট হিসেবে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিষয়গুলো পরিচালনা পরিষদের সামনে তুলে ধরি। শিক্ষার্থীদের বৈধ দাবিগুলো আমাদের মাধ্যমেই পরিচালনা পর্ষদের কাছে উত্থাপন করা হয়, এবং সিনেটে একাডেমিক নীতিগুলো পাশ হয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শিক্ষার্থীদের এমন প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে আমি একজন বাংলাদেশি হিসেবে নিজেকে গর্বিত মনে করছি।"
এই সাফল্য কেবল সুলতানা রাজিয়ার ব্যক্তিগত অর্জনই নয়, বরং এটি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উত্সাহব্যঞ্জক একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তার এই যাত্রা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে উচ্চশিক্ষা ও নেতৃত্বের ক্ষেত্রে অনুপ্রাণিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
