জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাইবার বুলিং অভিযোগে শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) প্রশাসন নারী শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে সাইবার বুলিং, অশ্লীল ভাষা ব্যবহার এবং হুমকিমূলক আচরণের অভিযোগে এক শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছে। বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী গোলাম রাব্বানী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের (৫০তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী হিসেবে নথিভুক্ত ছিলেন।
অফিস আদেশ ও শৃঙ্খলা ব্যবস্থা
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষের ইংরেজি বিভাগের এক শিক্ষার্থীর করা অভিযোগের ভিত্তিতে এই ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে। 'জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ-২০১৮'-এর ৪ (১) (খ) ধারা অনুযায়ী গোলাম রাব্বানীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
আদেশ অনুসারে, সাময়িক বহিষ্কারকালীন ওই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো আবাসিক হলে অবস্থান করতে পারবে না। ঘটনাটি অধিকতর তদন্তের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য প্রণীত শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশের ধারা অনুযায়ী একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটি গঠন ও দায়িত্ব
গঠিত তদন্ত কমিটিতে সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তামালিকা সুলতানাকে সভাপতি করা হয়েছে। কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন সহকারী প্রক্টর মো. আল-আমিন খান, সহকারী প্রক্টর সামসুজ্জোহা খন্দকার এবং সাদাহাত হোসেন। ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. সোহেল রানা কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পটভূমি ও অভিযোগ
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ক্যাম্পাসের একটি দেয়াল গ্রাফিতিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন গোলাম রাব্বানী। সেই ভিডিওর মন্তব্য ঘরে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মনিষা সরকার একটি বিষয়ে আপত্তি জানান। এর জের ধরে তাকে উদ্দেশ্য করে অত্যন্ত অশ্লীল মন্তব্য ও সাইবার বুলিং করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করলে, প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই ব্যবস্থা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
