মুক্তিযুদ্ধ বাদ দিয়ে রাজনৈতিক বয়ান গড়া অসম্ভব: ডাকসু নেতা সর্বমিত্র চাকমা
একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধকে বাদ দিয়ে কিংবা এর বিপরীতে নতুন কোনো রাজনৈতিক বয়ান দাঁড় করানো একেবারেই অসম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, একাত্তরকে পাশ কাটিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা মূলত ইতিহাসকেই অস্বীকার করার সমতুল্য।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য
গত শুক্রবার রাত সাড়ে তিনটার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসে সর্বমিত্র চাকমা এই দৃঢ় মতামত প্রকাশ করেন। স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, 'একাত্তরকে পাশ কাটিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতি করার চেষ্টা ইতিহাসকে অস্বীকার করা। মুক্তিযুদ্ধকে বাদ দিয়ে, মুক্তিযুদ্ধের বিপরীতে নতুন কোনো রাজনৈতিক বয়ান দাঁড় করানো যায় না।' তার এই বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও তাৎপর্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
ইতিহাসের নির্মোহ মূল্যায়নের উপর জোর
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে দেওয়া এই ফেসবুক স্ট্যাটাসে ডাকসুর এ সদস্য ইতিহাসের নির্মোহ ও সঠিক মূল্যায়নের উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি লিখেছেন, 'শেখ মুজিবুর রহমানের সমালোচনা করতে হবে, বাকশাল নিয়ে হাজারটা প্রশ্ন তোলা যাবে, রক্ষীবাহিনীর তাণ্ডব নিয়ে কথা বলতে হবে। একই সাথে ৭ মার্চের ভাষণকে স্বীকার করতে হবে।' তার মতে, ইতিহাসের প্রতিটি দিককে স্বচ্ছভাবে বিশ্লেষণ করা জরুরি, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের মৌলিক ভিত্তিকে কোনোভাবেই উপেক্ষা করা উচিত নয়।
৭ মার্চের ভাষণের ঐতিহাসিক তাৎপর্য
৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের গুরুত্ব তুলে ধরে সর্বমিত্র চাকমা বলেন, 'সেই ভাষণ শুধু একজন নেতার বক্তব্য ছিল না। এটি ছিল রেসকোর্স ময়দানে জড়ো হওয়া লক্ষ মানুষের জমে থাকা ক্ষোভ, বঞ্চনা ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার সম্মিলিত উচ্চারণ।' তিনি আরও যোগ করেন যে, একাত্তরের প্রতিটি বাঁক ও ঘটনা বাংলাদেশের জনগণের জন্য চিরস্মরণীয় এবং তা থেকে শিক্ষা নেওয়া অপরিহার্য।
সকলের প্রতি আহ্বান
সবাইকে উদ্দেশ্য করে ডাকসু সদস্য সর্বমিত্র চাকমা তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, 'বাকশাল নিপাত যাক, একাত্তর দালালের হাত থেকে মুক্তি পাক। রাজনৈতিক হাতিয়ার নয়, একাত্তর হোক গণমানুষের!' তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি মুক্তিযুদ্ধকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করে গণমানুষের মালিকানায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
সর্বমিত্র চাকমার এই মন্তব্যগুলো বাংলাদেশের রাজনৈতিক আলোচনায় মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকা ও ইতিহাসের স্থান নিয়ে নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি করেছে। তার দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এটিকে উপেক্ষা করে কোনো বিকল্প বয়ান প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
