জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের ইফতার মাহফিলে খাবার সংকট ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ
জাবিতে ছাত্রশিবিরের ইফতার মাহফিলে খাবার সংকটের অভিযোগ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের ইফতার মাহফিলে খাবার সংকট ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ছাত্রশিবির আয়োজিত একটি সম্মিলিত ইফতার মাহফিলে খাবার সংকট ও মারাত্মক অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত এই ইফতার মাহফিলে উপস্থিত অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী ইফতার সামগ্রী না পেয়েই ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।

শৃঙ্খলার অভাব ও নারী শিক্ষার্থীদের সমস্যা

মাঠে উপস্থিত একাধিক শিক্ষার্থীর বর্ণনা অনুযায়ী, ইফতার বিতরণ প্রক্রিয়ায় স্পষ্ট শৃঙ্খলার অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পরও অনেক শিক্ষার্থী ইফতার সামগ্রী সংগ্রহ করতে পারেননি। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীরা লাইন থেকে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ইফতার না পেয়েই ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন, যা তাদের জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।

বহিরাগতদের উপস্থিতি ও নিয়ন্ত্রণ সমস্যা

আয়োজনে উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে আলাপচারিতায় আরও জানা গেছে, এই ইফতার মাহফিলে বহিরাগতদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতিও ছিল। এই বহিরাগতদের উপস্থিতির কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয় এবং ইফতার বিতরণ প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে পড়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের শিক্ষার্থী তাহেদুর সাদিক তৌহিদ বলেন, "আমার পাশে থাকা এক শিক্ষার্থী একাধিকবার খাবার নিয়েছেন। এভাবে অনেকেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি নেওয়ায় সংকট আরও বেড়েছে।"

ছাত্রশিবিরের ব্যাখ্যা ও শিক্ষার্থীদের দাবি

এ বিষয়ে জাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মাজহারুল ইসলাম একটি ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। তিনি বলেন, "গত বছর প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থীর জন্য ইফতারের আয়োজন করেছিলাম। এবার সাড়ে তিন হাজার শিক্ষার্থীর জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়। তবে প্রত্যাশার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ শিক্ষার্থীর উপস্থিতি হওয়ায় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।" তবে সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে এমন বড় আয়োজনে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার দাবি জানিয়েছেন। তারা চান যেন ভবিষ্যতে কোনো ধরনের সংকট বা বিশৃঙ্খলা ছাড়াই ইফতার মাহফিল সফলভাবে সম্পন্ন হতে পারে।

এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অনেক শিক্ষার্থী বিশ্বাস করেন যে, বড় আকারের আয়োজন পরিচালনার ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা ও পরিকল্পনার প্রয়োজন ছিল। তারা আশা করেন ভবিষ্যতে এমন অনুষ্ঠানগুলোতে যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে যাতে কোনো শিক্ষার্থীই ইফতার থেকে বঞ্চিত না হন।