জাবিতে শিবিরের ইফতারে অব্যবস্থাপনা: খাবার না পেয়ে শতশত শিক্ষার্থী ফিরে গেছেন
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের আয়োজিত সম্মিলিত ইফতার মাহফিলে ব্যাপক ভিড়ের কারণে খাবার বিতরণে মারাত্মক অব্যবস্থাপনা দেখা গেছে। বুধবার (৪ মার্চ ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত এই ইফতার অনুষ্ঠানে শতশত শিক্ষার্থী খাবার না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন, যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অংশগ্রহণকারীরা।
ভিড়ের চাপে পূর্ণ হয়ে যায় আসন
সরেজমিন দেখা গেছে, শিবির আয়োজিত ইফতার প্রোগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী ও পুরুষ শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে সমবেত হন। ইফতারের সময়ের অনেক আগেই শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত আসন পূর্ণ হয়ে যায়, যা আয়োজকদের প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি ছিল।
খাবার বিতরণের সময় মারাত্মক অব্যবস্থাপনা লক্ষ্য করা যায়, যেখানে ছেলে ও মেয়েদের জন্য পৃথক লাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ থেকে শুরু করে শহীদ মিনার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে পড়ে। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই শেষ পর্যন্ত ইফতার সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হন এবং খালি হাতে ফিরে যান।
আয়োজকদের দাবি ও ক্ষোভ
আয়োজকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, তারা প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থীর জন্য ইফতারের আয়োজন রেখেছিলেন। তবে উপস্থিতির সংখ্যা তাদের কল্পনার বাইরে চলে যায়, যা শেষ মুহূর্তে খাবার সংকুলান না হওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
এই অব্যবস্থাপনার ঘটনায় ইফতারে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনুষ্ঠান শেষে ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে জাবি শিবিরের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন।
মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। আমাদের প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি শিক্ষার্থী ভাইবোনেরা উপস্থিত হওয়ায় কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থীর কাছে আমরা ইফতার পৌঁছাতে পারিনি। গত বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে এ বছর আমরা ৩০০০+ শিক্ষার্থীর জন্য আয়োজন রেখেছিলাম। তারপরেও শেষ মুহূর্তে খাবার সংকুলান না হওয়ায় অনেককেই ইফতার না নিয়ে ফিরে যেতে হয়। আমরা সবার কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করছি। পরবর্তী যেকোনো আয়োজনে আমরা আরও বেশি সতর্ক থাকব ইনশাআল্লাহ।’
শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া
ইফতারে অংশ নেওয়া অনেক শিক্ষার্থী জানান, তারা দীর্ঘ সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পরও খাবার সংগ্রহ করতে পারেননি। এই ঘটনায় তাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
- এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম সুন্দরভাবে ইফতার করতে পারব, কিন্তু শেষ পর্যন্ত খালি হাতে ফিরতে হয়েছে।’
- অন্য একজন শিক্ষার্থী যোগ করেন, ‘এ ধরনের আয়োজনে আগে থেকে ভালো পরিকল্পনা করা উচিত ছিল।’
এই ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে অনেকেই আয়োজকদের পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার সমালোচনা করেছেন।
