ঝিনাইদহ সীমান্তে অভিযানে ৭ ভারতীয় নাগরিকসহ ১১ জন আটক
ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় একটি অভিযান চালিয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৭ জন ভারতীয় নাগরিকসহ মোট ১১ জনকে আটক করেছে। শুক্রবার, ৬ মার্চ তারিখে এই অভিযানটি পরিচালিত হয়, যেখানে সীমান্ত পারাপার ও মাদক চোরাচালান রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আটক ব্যক্তিদের পরিচয় ও অভিযানের বিস্তারিত
উপজেলার শ্রীনাথপুর হালদারপাড়া এলাকা থেকে ৭ জন ভারতীয় নাগরিককে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে রয়েছেন ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার ফারাক্কা থানার টিলঢাংগা গ্রামের মো. শাহাজাহান (৩৫ বছর), তার স্ত্রী মোছা. তৈয়বা বেগম (৩০ বছর) এবং তাদের পাঁচ সন্তান। শিশুদের বয়স ৬ থেকে ১২ বছরের মধ্যে। জিজ্ঞাসাবাদে শাহাজাহান জানান, তিনি তিন বছর বয়সে ভারতে চলে যান এবং প্রায় ৩০ বছর ধরে সেখানে বসবাস করছেন। তার স্ত্রী তৈয়বা বেগম একজন ভারতীয় নাগরিক। তারা সপরিবারে প্রায় দুই মাস আগে রাজশাহী সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন এবং গাইবান্ধা সদর উপজেলার ভগবানপুর গ্রামে একটি ময়দার মিলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন।
এছাড়া, মহেশপুর উপজেলার বাঘাডাঙ্গা এলাকা দিয়ে ভারতে প্রবেশের চেষ্টাকালে বিজিবির টহলদল খুলনার দাকোপ উপজেলার আধাঁরমানিক গ্রামের সিরাজুল গাজী ও হুমায়ন কবীরসহ আরও দুই নারীকে আটক করে। এই চারজন বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন।
মাদক ও নিষিদ্ধ দ্রব্য জব্দ
বিজিবির সহকারী পরিচালক মুন্সি ইমদাদুর রহমান জানান, এই অভিযানের অংশ হিসেবে সীমান্তের বিভিন্ন এলাকা থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাদক ও নিষিদ্ধ দ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। কানাইডাঙ্গা এলাকা থেকে ৮৬ বোতল ভারতীয় মদ, গোপালপুর এলাকা থেকে ৪৭২ পিস ভায়াগ্রা এবং ৩০ বোতল ভারতীয় উইনসেরেক্স সিরাপ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া, বেনীপুর বিওপির অধীন নবদুঘাপুর এলাকা থেকে ৭ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করা হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, রমজান মাসকে সামনে রেখে সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান ও অবৈধ পারাপার রোধে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখার চেষ্টা চলছে।
আইনগত ব্যবস্থা ও পরবর্তী পদক্ষেপ
আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদেরকে মহেশপুর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, আটক ৭ ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া, আটক ৪ বাংলাদেশির মধ্যে দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। নারী ও শিশুদের যশোর জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার সেন্টারে পাঠানো হবে, যেখানে তাদের যথাযথ সুরক্ষা ও পরিচর্যা নিশ্চিত করা হবে।
এই অভিযানটি সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারকরণ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, ভবিষ্যতেও এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে, যাতে সীমান্তে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা যায় এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
