বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে কাঠুরিয়া আহত, পা উড়ে গেছে
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে একটি ভয়াবহ স্থলমাইন বিস্ফোরণে আবদুল জব্বার (৫৩) নামের এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণে তাঁর বাঁ পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত নিচের অংশটি সম্পূর্ণভাবে উড়ে গেছে, যা একটি মর্মান্তিক ঘটনা হিসেবে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
ঘটনার সময় ও স্থান
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। আহত আবদুল জব্বার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দোছড়ি ইউনিয়নের পাইনছড়া এলাকার বাসিন্দা, যিনি পেশায় একজন কাঠুরিয়া হিসেবে কাজ করেন। তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তাঁর অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে।
বিস্ফোরণের বিস্তারিত বিবরণ
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা যায়, দোছড়ি ইউনিয়নের পাইনছড়া গ্রামটি নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। গতকাল এই এলাকার সাত থেকে আটজন কাঠুরিয়া বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে কাঠ কাটার কাজে গিয়েছিলেন। এ সময় শূন্যরেখার কাছাকাছি একটি স্থলমাইন বিস্ফোরণে আবদুল জব্বার সরাসরি আক্রান্ত হন। বিস্ফোরণের প্রচণ্ড ধাক্কায় তাঁর বাঁ পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে উড়ে যায়, পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অংশেও গুরুতর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য ও চিকিৎসা ব্যবস্থা
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল বাতেন মৃধা এই মাইন বিস্ফোরণে আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, "নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর আহত জব্বারকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।" এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন সতর্কতা জারি করেছে এবং সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার কথা বিবেচনা করছে।
সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণের ভয়াবহ ইতিহাস
বাংলাদেশ–মিয়ানমার সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণ একটি নিয়মিত দুর্ঘটনা হিসেবে দেখা দিচ্ছে, যা প্রাণহানি ও পঙ্গুত্বের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে অন্তত ৬৩ জন মাইন বিস্ফোরণে হতাহত হয়েছেন, যার মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের এবং পা হারিয়েছেন ৪৮ জন। বাকি আহতদেরও বিভিন্ন অঙ্গহানির শিকার হতে হয়েছে।
- ২০২৪ সালে: ১০ জন হতাহত
- ২০২৫ সালে: ১৮ জন হতাহত (এই বছর সবচেয়ে বেশি ঘটনা)
এই পরিসংখ্যানগুলি সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং স্থলমাইনের ভয়াবহতা উল্লেখযোগ্যভাবে তুলে ধরে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে।



