মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেল পাচার রোধে যশোর সীমান্তে বিজিবির কঠোর নজরদারি
জ্বালানি তেল পাচার রোধে যশোর সীমান্তে বিজিবির কঠোর নজরদারি

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেল পাচার রোধে যশোর সীমান্তে বিজিবির কঠোর নজরদারি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশের সীমান্তে তেল পাচারের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেল পাচার রোধে যশোর সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ব্যাপক জনবল বৃদ্ধি, টহল ও তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করেছে।

বিজিবির বিশেষ নজরদারি ও সতর্কতা

শুক্রবার (৬ মার্চ) যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বিজিবি সদরদফতরের সরাসরি নির্দেশনায় যশোর ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নজরদারি কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

এই বিশেষ নজরদারির আওতায় বেনাপোল স্থলবন্দরসহ যশোরের শার্শা ও চৌগাছা সীমান্তে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় টহল কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারির মাত্রা বাড়ানো হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অস্থায়ী চেকপোস্ট ও কড়াকড়ি তল্লাশি

গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থানে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে যানবাহন তল্লাশি করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব রুট দিয়ে অতীতে ডিজেল ও পেট্রোল পাচারের চেষ্টা হয়েছিল, সেসব পয়েন্টে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। বেনাপোল স্থলবন্দর গেট দিয়ে ভারতে প্রবেশকারী দেশীয় ও ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাকেও কড়াকড়িভাবে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে যশোর ব্যাটালিয়নের (৪৯ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী বলেন, "সীমান্তবর্তী এলাকায় জনবল বৃদ্ধি, বিশেষ টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। সন্দেহভাজন পরিবহন ও চলাচলের ওপরও কঠোর নজর রাখা হচ্ছে।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি আরও জানান, কোনোভাবেই যেন সীমান্ত পথে জ্বালানি তেল পাচার হতে না পারে সে বিষয়ে বিজিবি সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। দেশের জ্বালানি সম্পদ সুরক্ষায় বিজিবি সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখবে এবং পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

যশোরে তেল সংকটের আতঙ্ক

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে তেল সংকটের আতঙ্কে যশোরে হঠাৎই তেল পাম্পগুলোতে ভিড় জমিয়েছেন বাইকাররা। অধিকাংশ বাইকারই প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত তেল দাবি করছেন। এতে অনেক পাম্প বন্ধ হয়ে গেছে। হাতে গোনা কয়েকটি পাম্পে অকটেন মিললেও পাওয়া যাচ্ছে না পেট্রোল। সেখানেও বাইকারদের দীর্ঘ লাইন দিয়ে নিতে হচ্ছে তেল।

পাম্প সংশ্লিষ্টরা বলছে, পাম্পগুলোতে আগামী রবিবার পর্যন্ত তেলের মজুত থাকলেও বাইকারদের অতিরিক্ত দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তার আগেই শেষ হবে তেল। ফলে বাইকারদের কারণে যশোরে সৃষ্টি হতে চলছে তেলের সংকট।

এই পরিস্থিতিতে বিজিবির কঠোর নজরদারি ও তল্লাশি কার্যক্রম জ্বালানি তেল পাচার রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।