বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে জেলে সংঘর্ষ: আহত ৪, নিখোঁজ ২
বঙ্গোপসাগরে জেলে সংঘর্ষে আহত ৪, নিখোঁজ ২

বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে জেলে সংঘর্ষ: আহত ৪, নিখোঁজ ২

বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে জেলে বহরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে চার জেলে আহত হয়েছেন এবং দুই জেলে সাগরে পড়ে নিখোঁজ রয়েছেন। বুধবার (৪ মার্চ) দিবাগত রাতে বরগুনার পাথরঘাটা উপকূল থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে আঠার বাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত চার জেলেকে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

নিখোঁজ জেলেদের পরিচয়

হামলার একপর্যায়ে মো. হিরু বয়াতি (৪০) ও জসিম গাজী (৩২) নামের দুই জেলে সাগরে পড়ে নিখোঁজ হন। তারা দুজনেই পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের বাসিন্দা। সংঘর্ষে আহত হন আমির হোসেন (৪০), কবির (৩৮), ইব্রাহিম (৪০) ও বাবু (২৩)। বৃহস্পতিবার সকালে তাদের পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মংচেনলা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ঘটনার বিবরণ

জানা গেছে, পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের মনির আকনের মালিকানাধীন এফবি ‘মায়ের দোয়া’ ট্রলারের জেলেরা গভীর সমুদ্রে মাছ ধরছিলেন। এ সময় একটি ট্রলার তাদের পাতা জালের ওপর উঠে যায়। এ নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা এবং পরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ট্রলার মালিক মনির আকনের অভিযোগ, বাধা দিলে প্রতিপক্ষের ট্রলার থেকে জেলেরা লোহার পাইপ, শিকল ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।

পরে আরও কয়েকটি ট্রলার এসে তাদের ঘিরে ফেলে এবং জেলেদের ওপর মারধর শুরু করে। এ সময় লোহার টুকরা ও পাথর নিক্ষেপ করা হয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হামলাকারীরা ট্রলার থেকে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকার মাছ লুট করে নিয়ে গেছে এবং প্রায় সাড়ে চার হাজার ফুট জাল কেটে নিয়ে গেছে।

হামলাকারী ট্রলারের তথ্য

ফিরে আসা জেলেদের দাবি, হামলায় অংশ নেওয়া ট্রলারগুলোর মধ্যে এফবি মুন্না, এফবি মক্কা মদিনা ও এফবি জায়েন খান নামে তিনটি ট্রলার ছিল। এসব ট্রলারের মালিকদের বাড়ি বাগেরহাট জেলার রায়েন্দা এলাকায়।

পুলিশের পদক্ষেপ

পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মংচেনলা জানান, ভুক্তভোগীরা থানায় মৌখিক অভিযোগ করেছেন। তাদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নিখোঁজ জেলেদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান চলছে এবং সমুদ্রে নিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এই ঘটনা সমুদ্রে জেলেদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছে স্থানীয় বাসিন্দারা।