সীমান্ত নদী নিয়ে সুসংবাদ আসছে: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ
সীমান্ত নদী নিয়ে অদূর ভবিষ্যতে ইতিবাচক খবর আসতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি উল্লেখ করেন যে, ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে অভিন্ন নদী নিয়ে চলমান আলোচনা দ্রুত ফলপ্রসূ হবে এবং বাংলাদেশের জন্য সুসংবাদ বয়ে আনবে।
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য ও প্রকল্প পরিদর্শন
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলা সদরের ময়নাপতির চর এলাকায় করতোয়া নদীতে টি-বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের স্থান পরিদর্শন শেষে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের ৫৪টি এবং মিয়ানমারের সঙ্গে ৩টি অভিন্ন নদী রয়েছে। এসব নদী নিয়ে ইতিমধ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং আলাপ-আলোচনা অব্যাহত আছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমার দৃঢ় বিশ্বাস, অল্প দিনের ভেতরেই আপনারা সুসংবাদ পাবেন। বিগত দিনে যেসব সমস্যা বিদ্যমান, সেগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করে বাংলাদেশকে শুধু মরুভূমি থেকে রক্ষা করাই নয়, বরং সুজলা-সুফলা-শস্য-শ্যামলা বাংলাদেশে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।
গঙ্গা ও তিস্তা চুক্তি নিয়ে অগ্রগতি
গঙ্গা চুক্তি সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গঙ্গা চুক্তি এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং আগামী ডিসেম্বরে এর মেয়াদ শেষ হবে। এই প্রেক্ষাপটে সরকার চুক্তি পুনর্বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছে। পূর্ববর্তী চুক্তির ভিত্তিতে নতুন সুযোগ-সুবিধা যুক্ত করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং টেকনিক্যাল পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম এগিয়ে চলেছে।
এছাড়া, তিস্তা নদী নিয়েও টেকনিক্যাল হ্যান্ডলাররা সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন বলে জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের জলসম্পদ ব্যবস্থাপনায় গুণগত উন্নয়ন ঘটানো হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
পানি উন্নয়ন বোর্ড মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার তাদের মোটা অঙ্কের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে। তাই জনগণের মধ্যে বিদ্যমান ভ্রান্ত ধারণা দূর করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, আমাদের প্রথম লক্ষ্য হলো এই ধারণাকে পুনরুদ্ধার করা।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সরকার ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, জলাশয় ও খাল খননের প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ঈদের আগেই প্রথম ধাপের কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের কৃষি ও পরিবেশগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সর্বোপরি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের এই ঘোষণা সীমান্ত নদী নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতা নিরসনে আশার আলো দেখাচ্ছে এবং বাংলাদেশের জলসম্পদ ব্যবস্থাপনায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।
