গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষ: নিহত ১, আহত ১০
গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নিলু মুন্সী (৫০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সোমবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার কমলাপুর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
নিহত নিলু মুন্সী কমলাপুর গ্রামের আনোয়ার মুন্সীর ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উভয় গ্রুপই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আনোয়ার হোসেন মুন্সী ও নূর ইসলাম গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সোমবার বেলা ১১টার দিকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
এতে উভয় পক্ষের নারীসহ অন্তত ১১ জন আহত হন। আহতদের প্রথমে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে গুরুতর আহত নিলু মুন্সী, তার স্ত্রী রুপা বেগম (৪০), ভাই মিলন মুন্সী (৫২) ও দুলাল মুন্সী (৪০)-কে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক নিলু মুন্সীকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর পক্ষের নূর ইসলাম (৩৩) মুকসুদপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্য আহতদেরও স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা
মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ কাজ করছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও র্যাব সদস্যরা অবস্থান করছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সংঘর্ষের পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে, তবে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত করেছে।
এই ঘটনা গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে।
