বিজিবি-র্যাবের যৌথ অভিযানে সীমান্তে বিস্ফোরক ও ইলেকট্রিক ডেটোনেটর উদ্ধার
সীমান্ত এলাকায় বিস্ফোরক ও বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহৃত ইলেকট্রিক ডেটোনেটর উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও র্যাব। গতকাল রোববার রাত পৌনে ১২টার দিকে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার সুরাইঘাট ভারত সীমান্ত পিলার ১৩১৪/এমপি থেকে সাড়ে ৭ কিলোমিটার বাংলাদেশের ভেতরে ধর্মপুর এলাকা থেকে এই বিপজ্জনক দ্রব্যগুলো উদ্ধার করা হয়।
বিস্ফোরক উদ্ধারের বিস্তারিত বিবরণ
বিজিবির দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ধর্মপুরে পলিথিনে মোড়ানো এবং গাছের ডালপালা দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় ১৪টি বিস্ফোরক পাওয়ার জেল এবং ১৪টি ইলেকট্রিক ডেটোনেটর উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ডেটোনেটর ব্যবহার করে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ইম্প্রভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) প্রস্তুত করা সম্ভব, যা নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করতে পারে।
চোরাচালানের উদ্দেশ্য ও পূর্বের অভিযান
বিজিবি আরও জানিয়েছে, দেশে বিদ্যমান স্থিতিশীল পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার প্রয়াসে এবং নাশকতার উদ্দেশ্যে বিস্ফোরক দ্রব্যগুলো চোরাচালানের মাধ্যমে বাংলাদেশে আনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগেও বিজিবি ও র্যাব একাধিক অভিযানে এ ধরনের বিস্ফোরক ও ইলেকট্রিক ডেটোনেটর উদ্ধার করেছে, যা সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা যায়।
বিজিবি কর্মকর্তার বক্তব্য
জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন ১৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জুবায়ের আনোয়ার বলেন, সীমান্তের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বিধান, মাদকদ্রব্য ও অস্ত্রের অনুপ্রবেশ রোধ এবং অন্যান্য পণ্যের চোরাচালান রোধে বিজিবির গোয়েন্দা তৎপরতা, আভিযানিক কার্যক্রম ও সতর্ক অবস্থানের কারণেই এ ধরনের বিস্ফোরক দ্রব্যের চোরাচালান প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে ভবিষ্যতেও বিজিবি এ ধরনের তৎপরতা অব্যাহত রাখবে, যাতে দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
এই ঘটনা সীমান্ত নিরাপত্তার গুরুত্বকে আরও তুলে ধরে এবং বিজিবি ও র্যাবের সমন্বিত প্রচেষ্টার সাফল্য প্রদর্শন করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে উদ্বেগ থাকলেও, কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ আশ্বস্ত করেছে যে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকরভাবে কাজ করছে।
