নড়াইলে আধিপত্যের দ্বন্দ্বে বাবা-ছেলেসহ চারজনের নৃশংস হত্যা
নড়াইল সদর উপজেলার শিঙ্গাশোল ইউনিয়নের বড়কুলা গ্রামে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং দীর্ঘদিনের শত্রুতার জের ধরে বাবা-ছেলেসহ চার ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে এ নৃশংস ঘটনা ঘটে। নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন শিকদার হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহতদের পরিচয় ও ঘটনার পটভূমি
নিহতরা হলেন বড়কুলা গ্রামের খলিল শেখ (৭০), তার ছেলে তাহাজ্জত শেখ (৪১), একই পক্ষের ফেরদাউস হোসেন (৪০) এবং প্রতিপক্ষের ওসিকুর ফকির (৩৬)। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে শিঙ্গাশোল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. খায়রুজ্জামান ওরফে খয়ের মোল্লার পক্ষের রহমত হোসেনের লোকজনের সঙ্গে খলিল শেখের দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত চলে আসছিল।
নিহতরা মূলত তারাপুর গ্রামের বাসিন্দা হলেও প্রায় ৯-১০ বছর আগে গ্রাম্য মারামারি এড়িয়ে থাকতে পার্শ্ববর্তী বড়কুলা গ্রামে এসে বসবাস শুরু করেন। তারপরও এখানে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত অব্যাহত ছিল।
হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা ও প্রতিক্রিয়া
নিহত খলিল শেখের স্ত্রী মঞ্জুরা বেগম (৬৫) বলেন, ‘সোমবার ভোর রাতে সেহেরি খেয়ে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। তারাপুর গ্রাম থেকে সাবেক চেয়ারম্যান মো. খায়রুজ্জামান ওরফে খায়ের মোল্লার ৫০-৫৫ জন লোক দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা আমার স্বামী খলিল ও ছেলে তাহাজ্জতকে “কথা আছে” বলে ঘর থেকে বের করে নিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। এ ছাড়া আমাদের পক্ষের ফেরদাউসকেও একইভাবে কুপিয়ে হত্যা করে বীরদর্পে চলে যায়।’
এ ঘটনায় প্রতিপক্ষ গ্রুপের আহত ওসিকুর ফকিরকে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তির পর তিনি মারা যান। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন শিকদার আরও বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। পুলিশ এ ব্যাপারে কাজ করছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’
এই হত্যাকাণ্ড স্থানীয়ভাবে আতঙ্ক ছড়িয়েছে এবং পুলিশ তদন্ত জোরদার করেছে। এলাকাবাসী দ্রুত বিচার ও শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন।
