গাইবান্ধা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের তদন্ত
গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় একই দিনে দুটি ভিন্ন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকালে উভয় স্থান থেকে দুজন ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, যা স্থানীয়ভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। পুলিশ উভয় ঘটনাতেই হত্যাকাণ্ডের সন্দেহ প্রকাশ করে তদন্ত শুরু করেছে।
গোবিন্দগঞ্জে স্কুলছাত্রীর গলাকাটা লাশ সেপটিক ট্যাংকে
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া গ্রামে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। এখানে নুরমা খাতুন (১৬) নামে এক স্কুলছাত্রীর গলাকাটা লাশ একটি সেপটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত নুরমা স্থানীয় তালতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং কৃষক নজরুল ইসলামের মেয়ে ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের বরাতে জানা যায়, নুরমা সকাল থেকেই নিখোঁজ ছিলেন। তার পরিবারের সদস্যরা ব্যাপকভাবে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান পাননি। বিকালে প্রতিবেশী হযরত আলীর বাড়ির সেপটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে তার গলাকাটা লাশ পাওয়া যায়। নিহতের বাবা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘দুপুরে মেয়ে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। সব জায়গায় খোঁজ নেওয়ার পরও সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে প্রতিবেশীর বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। আমার মেয়েকে হত্যা করে লাশ গুম করার চেষ্টা করা হয়েছে। কারা এ ঘটনায় জড়িত, তা আমি জানি না।’
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।’
বাঞ্ছারামপুরে তিতাস নদীতে যুবকের লাশ উদ্ধার
একই দিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার থানা ঘাটের পাশে তিতাস নদী থেকে মোহাম্মদ আলী (২৮) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত মোহাম্মদ আলী উপজেলার ছলিমাবাদ ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামের নজরুল মিয়ার ছেলে ছিলেন এবং তিনি মানসিক প্রতিবন্ধী হিসেবে পরিচিত।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকালে তিতাস নদীতে লাশটি ভাসতে দেখে স্থানীয় লোকজন জাতীয় জরুরি সেবার ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। মোহাম্মদ আলী গত তিন দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ ইয়াছিন মিয়া বলেন, ‘লাশ উদ্ধারের পর পরিবারের সদস্যরা এসে শনাক্ত করেন। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ পুলিশ এখনও এই মৃত্যুর কারণ তদন্ত করছে, তবে হত্যাকাণ্ডের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
উভয় ঘটনায় পুলিশের তদন্ত ও জনমনে উদ্বেগ
গাইবান্ধা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এই দুটি ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে গোবিন্দগঞ্জের ঘটনায় একটি কিশোরী স্কুলছাত্রীর নির্মম হত্যাকাণ্ড এবং লাশ গুম করার চেষ্টা সম্প্রদায়কে স্তম্ভিত করেছে। অন্যদিকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনায় একটি দুর্বল ব্যক্তির মৃত্যু সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
পুলিশ উভয় ক্ষেত্রে তদন্ত জোরদার করেছে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। স্থানীয়রা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও ন্যায়বিচার কামনা করছেন। এই ঘটনাগুলো অপরাধ প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
