পটুয়াখালীর দুমকিতে চুরির চেষ্টাকালে কিশোর আটক, থানা ফটকে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ
পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় থানা ব্রিজ এলাকায় চুরির চেষ্টাকালে এক কিশোরকে স্থানীয়রা হাতেনাতে আটক করেছেন। শনিবার রাত সাড়ে ৯টায় এ ঘটনার পর বারবার চুরির ঘটনায় ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা দুমকি থানা ফটকের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন, যা উত্তেজনার সৃষ্টি করে।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে ওই এলাকায় এক রাতে সাতটি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে, যা ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি করেছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার রাতে থানা ব্রিজসংলগ্ন একটি মুদি দোকানের টিনের বেড়া কেটে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোর। পাশের দোকানের এক ব্যবসায়ী শব্দ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান এবং স্থানীয়রা বন্ধ দোকানের তালা ভেঙে চুরির চেষ্টাকালে ওই কিশোরকে ধরে ফেলেন।
আটক কিশোরের বাড়ি উপজেলার বাদশাবাড়ি এলাকায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, ঘটনার সময় তার সঙ্গে আরও একজন ছিল, যার বাড়ি লাউকাঠী আবাসনে। চোর আটক হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে শতাধিক ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে জড়ো হন এবং পূর্বের একাধিক চুরির ঘটনায় ক্ষুব্ধ জনতা আটক কিশোরকে গণপিটুনি দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে উপস্থিত দুজন সংবাদকর্মী, ছাত্রদলের এক নেতাসহ কয়েকজন জনরোষ থেকে রক্ষা করে আটক কিশোরকে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
পুলিশের হস্তক্ষেপ ও ব্যবসায়ীদের প্রতিক্রিয়া
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অতিরিক্ত ফোর্সের সহায়তায় আটক কিশোরকে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় বিক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা দুমকি থানা ফটকের সামনে জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে থাকেন এবং বারবার চুরির ঘটনায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে থানার মূল ফটক বন্ধ করে মাইকের মাধ্যমে ওসি উপস্থিত জনতাকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, একই এলাকায় বারবার চুরির ঘটনায় তারা আতঙ্কিত ও অতিষ্ঠ। তাদের দাবি, এর পেছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে এবং দ্রুত ওই চক্রকে শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না নিলে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়বে।
পুলিশের বক্তব্য
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, আটক কিশোরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তার সঙ্গে জড়িত অপরজনকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, স্থানীয়দের সহযোগিতায় দ্রুত ঘটনার তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সকল প্রকার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনা এলাকায় নিরাপত্তা সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং স্থানীয়রা দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করছেন। পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে যে, চুরির ঘটনাগুলো তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
