ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র নদে শিক্ষার্থী হত্যা: পাঁচ কিশোর গ্রেপ্তার
ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজের দুই শিক্ষার্থী ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে বেড়াতে গিয়ে এক কিশোর গ্যাং-এর হামলার শিকার হন। এই ঘটনায় একজন শিক্ষার্থী নূরুল্লাহ শাওন (২৬) নিহত হয়েছেন, অন্যজন মঞ্জুরুল আহসান (রিয়াদ) সাঁতরে বেঁচে ফিরেছেন। গত শুক্রবার রাতে নূরুল্লাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং পুলিশ জড়িত পাঁচ কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তার অভিযান ও আসামিদের পরিচয়
শিক্ষার্থী মৃত্যুর ঘটনায় জেলা ডিবি ও কোতোয়ালি মডেল থানার একাধিক দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালায়। গত শনিবার বিকেল পাঁচটার দিকে নেত্রকোনার সাপতাই এলাকা থেকে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর, ঈশ্বরগঞ্জের ভারতী বাজার এলাকা থেকে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর এবং ময়মনসিংহ নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৩, ১৫ ও ১৬ বছর বয়সী আরও তিন কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত নূরুল্লাহ শাওন আনন্দ মোহন কলেজের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর পরিবার কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার চর জাকালিয়া গ্রামে বসবাস করেন।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
গত বুধবার বিকেলে জয়নুল আবেদিন উদ্যান এলাকা থেকে নূরুল্লাহ শাওন ও তাঁর বন্ধু মঞ্জুরুল আহসান ব্রহ্মপুত্র নদের বিপরীত পারে বেড়াতে যান। সেখানে সাতজনের একটি কিশোর ছিনতাইকারী দলের কবলে পড়েন তারা। নূরুল্লাহ প্রতিবাদ করলে তাঁকে বেদম মারধর করা হয় এবং দুই বন্ধু দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন।
চারজন শাওনের পিছু নেয় এবং তিনজন মঞ্জুরুলের পিছু নেয়। মঞ্জুরুল ব্রহ্মপুত্র নদে নেমে সাঁতরে পার হতে পারলেও নূরুল্লাহর সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মামলা ও অভিযোগ
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে নিহত নূরুল্লাহর মা সাহিদা বেগম কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি অভিযোগ করেন। সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় তিন থেকে চারজনকে আসামি করে দেওয়া অভিযোগটি সন্ধ্যায় মামলা হিসেবে গ্রহণ করে পুলিশ। অভিযুক্ত কিশোরদের সবার বয়স ১৩ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে এবং তারা নগরের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে সপ্তম থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
গত শনিবার বেলা দুইটায় আনন্দ মোহন কলেজ মাঠে শাওনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা দ্রুত জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ সেখানে উপস্থিত হয়ে আসামি গ্রেপ্তারের আলটিমেটাম দেন।
পরে শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গিয়ে অবস্থান নেন। রাত আটটার মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আসামি গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা সেখান থেকে ফিরে যান।
পুলিশের বক্তব্য ও আইনি পদক্ষেপ
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, "ছিনতাইকারী কিশোর দলের কবলে পড়ে শিক্ষার্থী মৃত্যুর ঘটনায় গতকাল পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা সবাই এজাহারভুক্ত আসামি। আজ রোববার তাদের আদালতে পাঠানো হবে।"
এই ঘটনা ময়মনসিংহে নিরাপত্তা ও কিশোর অপরাধ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, স্থানীয় সম্প্রদায় ও কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছে।
