আদাবরে কিশোর গ্যাংয়ের হামলা: দুই শ্রমিক আহত, নেতা 'কালা রাসেল' গ্রেফতার
রাজধানীর আদাবর থানার মনসুরাবাদ এলাকায় শনিবার রাতে একটি এমব্রয়ডারি কারখানার শ্রমিকদের ওপর কিশোর গ্যাংয়ের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই শ্রমিক আহত হয়েছেন এবং ঘটনার পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ নেতা 'কালা রাসেল'কে গ্রেফতার করেছে।
ঘটনার বিবরণ
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, শনিবার রাত প্রায় ৯টার দিকে রোহান খান রাসেল ওরফে 'কালা রাসেল'-এর নেতৃত্বে ৮ থেকে ১০ জন কিশোর একটি এমব্রয়ডারি কারখানার দুই শ্রমিকের মোবাইল ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। এ সময় তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে শ্রমিকদের কুপিয়ে আহত করে।
হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আশপাশের ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা প্রতিবাদে এগিয়ে আসেন। হামলাকারীরা প্রথমে সরে গেলেও কিছু সময় পর সংঘবদ্ধ হয়ে পুনরায় হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। আহত দুই শ্রমিকের মধ্যে একজনকে দ্রুত শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
উত্তেজনা ও প্রতিবাদ
ঘটনার প্রতিবাদে রাত ১১টার দিকে এলাকার শ্রমিক ও মালিকরা একত্রিত হয়ে আদাবর থানার সামনে অবস্থান নেন। এতে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করে এবং পরে সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
মামলা ও গ্রেফতার
এমব্রয়ডারি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান জহির জানান, শনিবার রাতে কারখানার শ্রমিকদের বেতন দেওয়া হয়েছিল। বেতনের টাকা ও মোবাইল ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই কিশোর গ্যাং শ্রমিকদের ওপর হামলা চালায়। তিনি উল্লেখ করেন, কিশোর গ্যাংয়ের হোতা রোহান খান রাসেলকে প্রধান আসামি করে ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।
আদাবর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অপূর্ব দাস জানান, শনিবার দিনগত মধ্যরাতে ওই মামলার আসামি কিশোরগ্যাং লিডার কালা রাসেলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।
পরিস্থিতির মূল্যায়ন
এই ঘটনা রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কিশোর গ্যাংয়ের ক্রমবর্ধমান কার্যক্রম এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নিলেও দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য সামাজিক সচেতনতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা জোরদার করা প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।
