আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে নিরাপত্তা হুমকি নেই, র্যাবের সর্বাত্মক প্রস্তুতি
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে নিরাপত্তাজনিত কোনো হুমকি নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন র্যাব মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি দেশব্যাপী র্যাবের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন।
শহীদ মিনারে নিরাপত্তার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি
র্যাব মহাপরিচালক দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় সব ধরনের নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পূর্ণভাবে নেওয়া হয়েছে। পুরো এলাকাটি ৬৪টি ক্যামেরার মাধ্যমে সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে, যা নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি নিশ্চিত করবে। এছাড়াও, সারা দেশের প্রতিটি শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
দেশব্যাপী র্যাবের বিশেষ তৎপরতা
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে কেন্দ্র করে ২০ থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি রোধে ঢাকাসহ সারা দেশে পর্যাপ্ত সংখ্যক র্যাব সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে। অগ্রিম পদক্ষেপ হিসেবে র্যাবের সাদা পোশাকধারী গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির মাধ্যমে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের জন্য অবজারভেশন পোস্ট, ওয়াচ টাওয়ার এবং চেকপোস্ট স্থাপনের মাধ্যমে র্যাব অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করে নিরাপত্তার দায়িত্বে সক্রিয় থাকবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মেট্রোপলিটন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার
ঢাকা মহানগরীসহ অন্যান্য মেট্রোপলিটন এলাকা, বিভাগীয় শহর, জেলা ও উপজেলাসহ দেশের যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অমর একুশে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, সেসব স্থানে গোয়েন্দা নজরদারিসহ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। র্যাবের ডিজি আরও জানান, শহীদ মিনারের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে র্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও ডগ স্কোয়াড প্রয়োজনীয় সুইপিং সম্পন্ন করবে। পাশাপাশি যেকোনো উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য র্যাবের স্পেশাল ফোর্স সার্বক্ষণিকভাবে প্রস্তুত রয়েছে।
নিষিদ্ধ দলের কার্যক্রম রোধে সতর্কতা
নিষিদ্ধ ঘোষিত দল বা সংগঠনের সদস্যরা যাতে শহীদ মিনার অঙ্গনে প্রবেশ করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে র্যাব সবসময় তৎপর রয়েছে বলে মহাপরিচালক উল্লেখ করেন। শহীদ মিনার সংলগ্ন এলাকাকে নজরদারির আওতায় আনতে সিসিটিভি এবং মনিটরিং কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এখন থেকে বিভিন্ন দাবি আদায়ের নামে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে কোনো ধরনের কার্যক্রম করতে দেওয়া হবে না, যা জনগণের নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
