আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে নিরাপত্তা হুমকি নেই: ডিএমপি কমিশনার
মাতৃভাষা দিবসে নিরাপত্তা হুমকি নেই, ১৫ হাজার পুলিশ মোতায়েন

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে নিরাপত্তা হুমকি নেই: ডিএমপি কমিশনার

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী শুক্রবার জানিয়েছেন, আগামী শনিবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন নিয়ে কোনো নিরাপত্তা হুমকি নেই। তিনি শুক্রবার সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য শেয়ার করেন।

শহীদ মিনার খোলার সময় ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

ডিএমপি কমিশনার বলেন, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ব্যক্তিত্ব ও বিদেশি কূটনীতিকদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর রাত আনুমানিক ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে শহীদ মিনার সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে, এবং এই উপলক্ষে ডিএমপি বহুস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

নিরাপত্তা বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকদের মোতায়েন: আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবকও মোতায়েন করা হবে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, শহীদ মিনার এলাকায় ১৫ হাজার পুলিশ কর্মী মোতায়েন করা হবে। অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও দায়িত্বে থাকবে এবং গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

দর্শনার্থীদের জন্য নির্দেশনা

দর্শনার্থীদের জন্য তিনি কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন:

  • শহীদ মিনার এলাকায় প্রবেশের জন্য পলাশী মোড়, জগন্নাথ হল ক্রসিং এবং শহীদ মিনার রোড ব্যবহার করতে অনুরোধ করা হয়েছে।
  • শ্রদ্ধা নিবেদনের পর দোয়েল চত্বর বা চাঁনখারপুল দিয়ে বের হওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
  • তিনি জনগণকে শহীদ মিনারে কোনো ধারালো বস্তু বা দাহ্য পদার্থ বহন না করার জন্য অনুরোধ করেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যানবাহন ব্যবস্থা

নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য তিনি বলেন, সন্ধ্যা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বেশ কয়েকটি প্রবেশপথে যানবাহন ডাইভারশন কার্যকর থাকবে। এই ব্যবস্থা এলাকার নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

ডিএমপি কমিশনার আরও জোর দিয়ে বলেন, সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং জনগণকে নির্ভয়ে ও শান্তিপূর্ণভাবে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে উৎসাহিত করা হয়েছে। এই দিবসটি স্মরণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগ সক্রিয় রয়েছে।