ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ, খেলাফত মজলিসের তীব্র প্রতিবাদ
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন আসনে ব্যাপক অনিয়ম, ভয়ভীতি ও সহিংস আচরণের অভিযোগ তুলে ধরেছে। দলটি রিকশা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ উত্থাপন করে অবিলম্বে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উত্থাপিত অভিযোগসমূহ
আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রচার সম্পাদক ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব হাসান জুনাইদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই দাবি জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন আসন থেকে উদ্বেগজনক অনিয়ম, ভয়ভীতি ও সহিংস আচরণের একাধিক অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
এই ঘটনাগুলো সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী পরিবেশকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে দলটি দাবি করেছে। বিশেষ করে ঢাকা–১৩ আসনের ৩৩ ও ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডে বৈধ এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া এবং ভোটারদের ফিরিয়ে দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
বিভিন্ন এলাকায় ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
ফরিদপুর–২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শামা ওবায়েদের বাড়ির কেন্দ্রসহ কয়েকটি কেন্দ্রে এজেন্টদের বের করে দেওয়ার ঘটনাও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। নেত্রকোনা–১ (দুর্গাপুর) উপজেলায় প্রশাসনের ভূমিকা ‘নিশ্চুপ ও রহস্যজনক’ বলে অভিহিত করা হয়েছে।
সেখানে ভোর থেকে এজেন্টদের বাড়িতে অবরুদ্ধ রাখা, কেন্দ্র এলাকায় হুমকি দেওয়া এবং চন্ডিগড় ইউনিয়নের মধুয়াকোনা কেন্দ্রে এক এজেন্টকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। তাঁকে হাসপাতালে নিতে বাঁধা দেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে—যা মানবাধিকার ও নির্বাচনী আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে বিবেচিত হচ্ছে।
গাজীপুর ও রাঙামাটিতে নির্বাচনী অনিয়ম
গাজীপুর–৩ আসনে গতকাল বুধবার রাত থেকেই এজেন্টদের হুমকি এবং একজনের পরিবারকে জিম্মি করে কেন্দ্রে যাওয়া থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। এখনো ভয়ভীতি প্রদর্শন অব্যাহত রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। রাঙামাটি–২৯৯ আসনের বিভিন্ন কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকের পোলিং এজেন্টরা ভোটকেন্দ্রের ভেতরে প্রকাশ্যে ভোটারদের নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এই আচরণটি নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের অভিযোগ, সিরাজগঞ্জের কয়েকটি কেন্দ্রে বোরকা পরিহিত নারী ভোটারদের পুরুষ এজেন্টের মাধ্যমে অপদস্ত ও হেনস্তা করার অভিযোগ এসেছে।
নারী ভোটারদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ
জোরপূর্বক বোরকা খুলে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে। সারাদেশেই বোরকা পরিহিত নারীদের ভোটাধিকার প্রয়োগে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, নারী ভোটারদের পরিচয় যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে তা নারী কর্মকর্তার মাধ্যমেই সম্পন্ন করতে হবে।
নরসিংদী–৩ আসনের পুটিয়া ইউনিয়নের সৈয়দনগর কেন্দ্রে ধানের শীষের পক্ষে জাল ভোট প্রদানের অভিযোগ তুলে প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয় দলটির পক্ষ থেকে।
নির্বাচন কমিশনের প্রতি জোরালো দাবি
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা নির্বাচন কমিশনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি, উল্লিখিত প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা এবং সব কেন্দ্রে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও ভীতিমুক্ত ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করা হোক। অন্যথায় জনগণের ভোটাধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হবে এবং নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।’
খেলাফত মজলিসের এই অভিযোগগুলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সুষ্ঠুতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা এই অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
