প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ঐতিহাসিক ভোট: পোস্টাল ব্যালটে অংশ নিলেন ১০ লাখের বেশি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটের আওতায় আনা হয়েছে, যা একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শুধু প্রবাসীই নন, সরকারি চাকরিজীবী এবং কারাগারে বন্দিদেরও এই পোস্টাল ব্যালট পদ্ধতিতে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আইটি-সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালট পদ্ধতিতে আজ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল সোয়া ৯টা পর্যন্ত মোট ১০ লাখ ৯৬ হাজার ২৮৪ জন বাংলাদেশি ভোট দিয়েছেন। এর মধ্যে ৫ লাখ ১৫ হাজার ৬১৯ জন প্রবাসী ভোটার রয়েছেন, আর বাকিরা দেশের অভ্যন্তরে থেকে পোস্টাল ভোট দিয়েছেন।
প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন ও ব্যালট বিতরণের বিশদ তথ্য
প্রবাসী ভোটার নিবন্ধনবিষয়ক ‘ওসিভি-এসডিআই’ প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনকারীদের মধ্যে সাত লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২টি ব্যালট গন্তব্যের দেশে পৌঁছেছে। এর মধ্যে পাঁচ লাখ ২৮ হাজার ৫৭৯ জন প্রবাসী ভোটার তাদের ব্যালট গ্রহণ করেছেন। আর ভোটদান সম্পন্ন করেছেন পাঁচ লাখ ১৫ হাজার ৬১৯ জন।”
সালীম আহমাদ আরও উল্লেখ করেন, “পাঁচ লাখ সাত হাজার ৩২৭ জন প্রবাসী ভোটার তাদের ব্যালট সংশ্লিষ্ট দেশের পোস্ট অফিস বা ডাক বাক্সে জমা দিয়েছেন। আর প্রবাসীদের দেশে পাঠানো ব্যালটগুলোর মধ্যে চার লাখ ৪৪ হাজার ৪৩৬টি পেয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা।”
দেশের অভ্যন্তরের পোস্টাল ভোটের পরিসংখ্যান
দেশের অভ্যন্তরের পোস্টাল ভোটের বিষয়ে সালীম আহমাদ বলেন, “বিদেশের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে (আইসিপিভি) অবস্থানরত ভোটারদের কাছেও পোস্টাল ব্যালট পাঠানো শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। এরই মধ্যে সারাদেশের সাত লাখ ৬০ হাজার ৮৯৮ জন নিবন্ধিত ভোটারের ঠিকানায় ব্যালট পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ছয় লাখ ১০ হাজার ৬৫০ জন ভোটার তাদের ব্যালট গ্রহণ করেছেন। পাঁচ লাখ ৮০ হাজার ৬৬৫ জন ভোটার ভোটদান সম্পন্ন করেছেন। পাঁচ লাখ ৬১ হাজার ১৩৯ জন তাদের ব্যালট পোস্ট অফিস বা ডাক বাক্সে জমা দিয়েছেন। আর রিটার্নিং কর্মকর্তা গ্রহণ করেছেন চার লাখ ৩৮ হাজার ৯৫১টি ব্যালট।”
মোট নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা
উল্লেখ্য, পোস্টাল ভোট বিডির ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন এই দুই নির্বাচনে দেশে ও দেশের বাইরের ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন। এই বিশাল সংখ্যা প্রবাসী ও অভ্যন্তরীণ ভোটারদের মধ্যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের আগ্রহকে প্রতিফলিত করে।
এই উদ্যোগটি বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে, যা ভোটারদের সুযোগ বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলছে।
