ভূমি অফিসে দালাল চক্রের অনুসন্ধানে যুগান্তরের সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি
ঢাকার লালবাগ রাজস্ব সার্কেলের আওতাধীন ভূমি অফিসগুলোতে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্যে সেবাগ্রহীতারা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সেবাগ্রহীতাদের দাবি, ভূমি অফিসে কাজের জন্য কেউ গেলে তাদেরকে দালালদের সঙ্গে নির্ধারিত চুক্তি করতে বাধ্য করা হয়।
দালাল চক্রের কার্যক্রম ও প্রভাব
অভিযোগ রয়েছে, শেখ আনোয়ারের নেতৃত্বে অন্তত ১০ জনের একটি চক্র ভূমি অফিসের সামনে অবস্থান করে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে কাজ করিয়ে দেওয়ার নামে দালালি করছে। তাদের প্রভাবের কারণে অনেক সময় ভূমি অফিসের কর্মকর্তারাও চাপে পড়ে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ভূমি অফিসের নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তা–কর্মচারী দৈনিক যুগান্তরকে জানান, শেখ আনোয়ার নিজেকে ভূমি অফিসের লোক পরিচয় দিয়ে সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং অর্থের বিনিময়ে তাদের কাজ করিয়ে দেওয়ার নামে দালালি করেন। তার সঙ্গে পারভেজ, রাসেল, রিয়াজ, সুমন, সাইফুল, রাশেদ ও জসিমসহ আরও কয়েকজন জড়িত রয়েছে বলে জানা গেছে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, "এই চক্রের দৌরাত্ম্যে সেবাগ্রহীতারা অসহায় হয়ে পড়ছেন এবং অনেক সময় কর্মকর্তারাও তটস্থ থাকেন। তবে একাধিক সেবাগ্রহীতা আবার দালাল আনোয়ারের মাধ্যমে দ্রুত কাজ হওয়ায় তার প্রশংসাও করেছেন বলে জানা গেছে।"
ভুয়া সাংবাদিক পরিচয় ও হুমকির ঘটনা
ভূমি অফিসের একটি সূত্র দাবি করেছে, শেখ আনোয়ার একটি ভুয়া সাংবাদিক সংগঠন তৈরি করে সেটির পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন কাজে তদবির করেন। অনেক সময় ভূমি অফিসের কর্মকর্তা–কর্মচারীদের ওপরও চাপ সৃষ্টি করেন। তার তদবির না শুনলে তিনি ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে গত বৃহস্পতিবার লালবাগ রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ শরিফুল হকের কার্যালয়ে যান দৈনিক যুগান্তরের সাংবাদিক মো. জহিরুল ইসলাম। এ ঘটনার পর রোববার (৮ মার্চ) বিকালে শেখ আনোয়ারের ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে সাংবাদিক মো. জহিরুল ইসলামের ব্যবহৃত নম্বরে কল করা হয়। প্রথমে বিকাল ৩টায় দুইবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে বিকাল ৫টায় তিনি ওই নম্বরে কল করলে ফোনের অপর প্রান্ত থেকে নিজেকে আনোয়ার পরিচয় দিয়ে ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞাসা করেন তিনি সহকারী কমিশনারের কাছে তারসহ কয়েকজন দালালের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন কিনা।
পরবর্তীতে ওই ব্যক্তি সাংবাদিকের সঙ্গে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘আমি তোর বাপ’ এবং দালালদের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়াকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে এ বিষয়ে অনুসন্ধান বা তথ্য সংগ্রহ করলে তাকে ক্ষতি করা হবে বলেও হুমকি দেন।
সাংবাদিকের জিডি ও কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া
এ ঘটনায় দৈনিক যুগান্তরের সাংবাদিক মো. জহিরুল ইসলাম রাজধানীর লালবাগ থানায় একটি জিডি করেছেন। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, একজন সংবাদকর্মী হিসেবে জনস্বার্থে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে তিনি এ ধরনের হুমকির মুখে পড়েছেন, যা তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি পুলিশের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে লালবাগ রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ শরিফুল হক বলেন, "ভূমি অফিসে দালালদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে ইতোমধ্যে নোটিশ টাঙানো হয়েছে। কারো বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
লালবাগ থানার ওসি ইয়াসিন আলী বলেন, "সাংবাদিককে হুমকির বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।"
