দুদক মহাপরিচালক মোতাহার হোসেনের উপর ছিনতাই: মোহাম্মদপুরে তারাবির পর হামলা
রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় একটি ভয়াবহ ছিনতাই ও হামলার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন শিকার হয়েছেন। শনিবার (৭ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে তারাবির নামাজ শেষে হাঁটাহাটি করার সময় এই ঘটনা ঘটে, যা প্রশাসনিক মহলে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
মোতাহার হোসেন রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের পাশে অবস্থিত শহীদ ফাইয়াজ চত্বরে হাঁটছিলেন, তখনই তিনজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র চাপাতি ও সামুরাই নিয়ে তার কাছে এসে ভয় দেখায়। তারা তাকে মারধর করে আহত করার পাশাপাশি তার কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন, নগদ টাকা এবং একটি দামি ঘড়ি ছিনিয়ে নেয়।
এ সময় ছিনতাইকারীরা মোবাইলের পাসওয়ার্ড জানতে চেয়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং বাম চোখে ঘুষি মেরে জখম করে। উপায়ান্তর না দেখে মোতাহার হোসেন পাসওয়ার্ড দিতে বাধ্য হন, এরপর অপরাধীরা অটোরিকশায় করে দ্রুত পালিয়ে যায়।
মামলা ও তদন্তের অগ্রগতি
এই ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় রোববার একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি দায়ের করেছেন দুদকের ডিএডি জাবেদ হোসেন সজল, যিনি মোতাহার হোসেনের স্টাফ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ছিনতাই হওয়া মোবাইল ট্র্যাক করার চেষ্টা করা হয়েছিল এবং তাজমহল রোডে আসামিদের আটক করার জন্য পুলিশের টহল টিম গিয়েছিল, কিন্তু তারা বাইকে করে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
মোহাম্মদপুর থানার ওসি মেজবাহ উদ্দিন জানান, ‘আমরা গুরুত্ব দিয়ে এই মামলার তদন্ত করছি। এখনও অপরাধীদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। আশা করি দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হব।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই ঘটনা রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে।
মোতাহার হোসেনের পদবি ও দায়িত্ব
মোতাহার হোসেন প্রশাসন ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হিসেবে সংযুক্ত থাকা অবস্থায় ২০২৪ সালের ১৭ মার্চ দুদকের মহাপরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার এই উচ্চপদস্থ অবস্থান ঘটনাটির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, কারণ এটি শুধু একটি সাধারণ ছিনতাই নয়, বরং রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তার উপর সরাসরি হামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে বেড়ে চলা অপরাধের প্রবণতার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যা নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনার দাবি রাখে।



